খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ ও বক্তব্য তুলে ধরেছে। আমরা মনে করি, ব্যবসায়ী সমাজের কাছে প্রকৃত তথ্য পরিষ্কার করা জরুরি। কারণ নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খুলনার সাধারণ ব্যবসায়ীরাই। প্রথমেই আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা কোনোভাবেই অনিয়মের পক্ষে নই। বরং আমরা চাই, খুলনা চেম্বারের নির্বাচন হোক সম্পূর্ণ আইনসম্মত, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায়। আদালতের প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং আদালতের যেকোনো নির্দেশ আমরা মেনে চলব।কিন্তু একই সঙ্গে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন; আইন ও বিধিমালায় সদস্যপদ এবং নির্বাচন পরিচালনার যে কাঠামো নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, সেটিও যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। বিগত ফ্যাসিষ্টের ন্যায় চেম্বারের নির্বাচন স্থগীত রাখার অপকৌশল থেকে তাদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাই।তারা নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তিকে নির্বাচনের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছে। আমাদের সরল প্রশ্ন-ঠিক কোন সদস্যের সদস্যপদ অবৈধ, কেন অবৈধ এবং কোন আইন বা বিধির কোন ধারা অনুযায়ী তা অবৈধ-সেটি সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা হোক।রবিবার খুলনা সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পক্ষে কাজী হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার সদস্যপদ যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যেতে পারে। কিন্তু কয়েকশ সদস্যকে একসঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ করে পুরো ব্যবসায়ী সমাজের নির্বাচন আটকে দেওয়া কোনোভাবেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। আমরা মনে করি, অভিযোগ থাকলে অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে; আর প্রমাণ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ধারা ২১ সকল ব্যবসায়ীকে সদস্যপদের অধিকার দিয়েছে। ধারা ২১(১) (ক)-এ বলা হয়েছে, ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবাখাতে নিয়োজিত ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বা তাদের কোনো শ্রেণিকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবার স্বার্থে নির্দিষ্ট নিবন্ধিত বাণিজ্য সংগঠনের সদস্য হতে হবে।আর ধারা ২১(১)(খ) অনুযায়ী, কোনো যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সদস্যপদের জন্য আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনকে তার সংঘবিধি অনুযায়ী তাকে সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। অর্থাৎ, কোনো প্রকৃত ব্যবসায়ী আইন ও সংঘবিধির নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে সদস্যপদের জন্য আবেদন করলে, তাকে সদস্য করতে না চাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
এছাড়া তারা প্রশাসকের সদস্য পদ দেওয়া ক্ষমতা নিয়ে যে গুজব ছড়াচ্ছে তাও আইনে স্পষ্ট করা আছে। ধারা ১৮(২) (ছ)- এই ধারায় প্রশাসককে বাণিজ্য সংগঠন সুচারুরূপে পরিচালনার উদ্দেশ্যে আইন ও বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় কার্যসম্পাদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই ধারার (জ) দফায় বিধি দ্বারা নির্ধারিত বা অন্য যেকোনো ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদনের কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো, প্রশাসকের দায়িত্ব শুধু দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ চালানো নয়; আইন ও বিধিমালার কাঠামোর মধ্যে থেকে সংগঠনের কার্যক্রমকে সচল রাখাও তাঁর দায়িত্বের অংশ। অর্থ্যাৎ পরিচালনা পর্ষদের মতই তার একই ক্ষমতা রয়েছে।
এছাড়াও বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ধারা ১২(২) প্রতিটি বাণিজ্য সংগঠনের ‘নির্বাহী কমিটি’ বা ‘পরিচালনা পর্ষদ’ এর গঠন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বা পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক সংখ্যা, কমিটি বা পর্ষদের মেয়াদ, নির্বাচন এবং উহার কার্যাবলী এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালার আলোকে প্রণীত সংঘবিধি অনুযায়ী উহার ‘নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদ’ বা ক্ষেত্রমত, প্রশাসক কর্তৃক পরিচালিত হইবে। এখানেও ‘নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদ’ এর মতই একই ক্ষমতা প্রশাসককেও দেয়া হয়েছে।
বিগত ১৪ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট দোসরা খুলনা চেম্বার দখল করে রাখায় কোন নির্বাচন হয়নি। এই নির্বাচন নিয়ে ব্যবসায়ী সমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা রয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আবার যদি নির্বাচন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে, তাহলে যারা আইনের মারপ্যাচে এগুলি করছে, তাদেরকেও ব্যাবসায়ীরা সাবেক স্বৈরাচারের মত বিদায় করবে বলে আশা রাখি।ব্যবসায়ীদের এখন প্রয়োজন একটি কার্যকর চেম্বার যে চেম্বার তাদের ব্যাংক ঋণ, ভ্যাট-কর, কাস্টমস, আমদানি-রপ্তানি, বন্দর, যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সমস্যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কার্যকরভাবে কথা বলবে। নির্বাচন আটকে রেখে এসব সমস্যার সমাধান হবে না।
আমরা প্রতিপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই ব্যক্তিগত আক্রমণ বা পরস্পরকে দোষারোপ না করে আসুন, আমরা একটি স্বচ্ছ সমাধানের পথে যাই। যদি কোনো সদস্যের সদস্যপদ নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তা প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হোক। আদালতের বিষয় আদালতেই নিষ্পত্তি হোক। আর আদালতের নির্দেশনার বাইরে যেসব বিষয় প্রশাসনিকভাবে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হোক।আমরা নির্বাচন চাই। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে আইনসম্মত, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ব্যবসায়ীদের কাছে গ্রহণযোগ্য।
খুলনা সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের হাফিজ-আসাদ-হুমায়ুন-মোশাররফ প্যানেল বিশ্বাস করে, খুলনা চেম্বারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন খুলনার ব্যবসায়ীরাই। আমরা কোনো সংঘাত চাই না, বিভাজন চাই না, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তাও চাই না। ##
খবর বিজ্ঞপ্তি : 


















