ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

গাজী নজরুলের অর্থের প্রলোভনে রাজি না হওয়ায় হত্যার হুমকি দিচ্ছে: গাড়ি চালক ওবায়দুর

  • মধুমতি ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : ০১:৩২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬ সময়-দৃশ্য

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক জেনে যাওয়ায় তাঁকে অর্থনৈতিক প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। তাঁর প্রলোভনে রাজি না হয়ে সব ফাঁস করে দেওয়ায় হত্যার হুমকি দেওয়া শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে সরকারের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেছেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে তাঁর ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

ওবায়দুরের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। এ ছাড়া নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনি হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ওবায়দুর রহমান জানান, গত ১৯ জুন তাঁর ভাগনির কাছ থেকে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন এমপি হোস্টেলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বললে গাজী নজরুল তা স্বীকার করেন। সে সময় তাঁকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব এবং ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি অর্থ গ্রহণ না করলেও ভাগনির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য, পরে বিভিন্ন সময়ে গাজী নজরুল ও তাঁর ভাগনির ঘনিষ্ঠতা প্রত্যক্ষ করেন। গত ২২ জুন মেট্রোরেল পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপ এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তাদের আপত্তিকর অবস্থানের প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর বলেন, গত ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্ট হাউসে এ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ওই রাতেই ভাগনিকে নিয়ে ঢাকার বাইরে অবস্থান করেন এবং পরদিন ঢাকায় ফিরে খিলক্ষেত হয়ে বাসায় পৌঁছানোর পর তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী অভিযোগ করেন, গত ১৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে বাসায় পৌঁছানোর পর মাসুম ও আমিনুর নামে দুই ব্যক্তি তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মেঝেতে ফেলে মাথায় লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর মা ও ছোট বোন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ওবায়দুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তে নেয় এবং কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁরা আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে মুক্ত আসামিসহ আরও কয়েকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ২ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে জানান তিনি।

নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে ওবায়দুর রহমান বলেন, তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত চান। তিনি যদি অপরাধী হন, তবে আইনের আওতায় আনা হোক। আর যদি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একের পর এক প্রাণনাশের হুমকির কারণে ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তাঁর কাছে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার নথি, মামলার কাগজপত্র, তথ্য-উপাত্ত এবং গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগসংক্রান্ত আরও কিছু নথি রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁরা যেন স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য জাতির সামনে তুলে ধরেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

গাজী নজরুলের অর্থের প্রলোভনে রাজি না হওয়ায় হত্যার হুমকি দিচ্ছে: গাড়ি চালক ওবায়দুর

আপডেটের সময় : ০১:৩২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক জেনে যাওয়ায় তাঁকে অর্থনৈতিক প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। তাঁর প্রলোভনে রাজি না হয়ে সব ফাঁস করে দেওয়ায় হত্যার হুমকি দেওয়া শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে সরকারের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেছেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে তাঁর ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

ওবায়দুরের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। এ ছাড়া নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনি হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ওবায়দুর রহমান জানান, গত ১৯ জুন তাঁর ভাগনির কাছ থেকে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন এমপি হোস্টেলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বললে গাজী নজরুল তা স্বীকার করেন। সে সময় তাঁকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব এবং ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি অর্থ গ্রহণ না করলেও ভাগনির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য, পরে বিভিন্ন সময়ে গাজী নজরুল ও তাঁর ভাগনির ঘনিষ্ঠতা প্রত্যক্ষ করেন। গত ২২ জুন মেট্রোরেল পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপ এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তাদের আপত্তিকর অবস্থানের প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর বলেন, গত ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্ট হাউসে এ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ওই রাতেই ভাগনিকে নিয়ে ঢাকার বাইরে অবস্থান করেন এবং পরদিন ঢাকায় ফিরে খিলক্ষেত হয়ে বাসায় পৌঁছানোর পর তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী অভিযোগ করেন, গত ১৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে বাসায় পৌঁছানোর পর মাসুম ও আমিনুর নামে দুই ব্যক্তি তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মেঝেতে ফেলে মাথায় লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর মা ও ছোট বোন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ওবায়দুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তে নেয় এবং কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁরা আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে মুক্ত আসামিসহ আরও কয়েকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ২ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে জানান তিনি।

নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে ওবায়দুর রহমান বলেন, তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত চান। তিনি যদি অপরাধী হন, তবে আইনের আওতায় আনা হোক। আর যদি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একের পর এক প্রাণনাশের হুমকির কারণে ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তাঁর কাছে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার নথি, মামলার কাগজপত্র, তথ্য-উপাত্ত এবং গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগসংক্রান্ত আরও কিছু নথি রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁরা যেন স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য জাতির সামনে তুলে ধরেন।