ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

ঘোড়াঘাটে অনলাইনে ই-নামজারি সিস্টেমে মৌজার তথ্য ও আরএস রেকর্ডের অপশন না থাকায় থমকে আছে নামজারি, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

 দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ডিজিটাল ভূমিসেবার প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে কয়েকটি মৌজার শত শত ভূমি মালিক ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও ই-নামজারি সিস্টেমে মৌজার তথ্য নেই, আবার কোথাও আরএস (RS) রেকর্ডের অপশন না থাকায় নামজারি, জমি বিক্রি ও রেজিস্ট্রি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জমি বিক্রি, রেজিস্ট্রি ও জরুরি প্রয়োজনে অর্থসংস্থানে বিপাকে পড়েছেন ভূমি মালিকরা।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াঘাট উপজেলার ১১৫টি মৌজার মধ্যে ১০৯ নম্বর কালুপুকুর মৌজার তথ্য বর্তমানে ই-নামজারি সিস্টেমে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এ মৌজার ভূমি মালিকরা অনলাইনে নামজারির আবেদনই সম্পন্ন করতে পারছেন না। অন্যদিকে বালিয়াডাঙ্গী ও পালশা ইউনিয়নের দুটি মৌজাসহ প্রায় ৭ থেকে ১০টি মৌজায় দাগ ও খতিয়ানের তথ্য দেওয়ার পর জরিপের ধরন নির্বাচন করতে গিয়ে আরএস (RS) রেকর্ডের অপশন পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এসব মৌজায় বর্তমানে আরএস রেকর্ড অনুসারেই নামজারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ভূমি মালিকদের অভিযোগ, অনলাইন ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণে ই-মিউটেশন আবেদন সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। নামজারি না হওয়ায় জমি বিক্রির প্রক্রিয়াও আটকে যাচ্ছে। কেউ চিকিৎসার খরচ মেটাতে জমি বিক্রি করতে চাইলেও পারছেন না, আবার কেউ সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ি নির্মাণ কিংবা ব্যবসার প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।
কালুপুকুর মৌজার বাসিন্দা আমতাজ উদ্দিন তালুকদার বলেন, “আমি জটিল হৃদরোগ ও কিডনি রোগে ভুগছি। প্রতি মাসে চিকিৎসার পেছনে প্রচুর টাকা ব্যয় হয়। খরচের জোগান দিতে জমি বিক্রি করতে চাইলেও নামজারির আবেদন করতে গিয়ে দেখি অনলাইন সিস্টেমে মৌজার তথ্যই নেই। প্রায় এক মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরেও সমাধান পাইনি।” জমি বিক্রি করতে না পারায় তার চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলার বালিয়াল মৌজার রেহেনা আক্তার চৌধুরী বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান ও সংসারের দায়িত্ব আমার কাঁধে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ সংসারের প্রয়োজন মেটাতে শেষ সম্বল জমিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিই। ক্রেতার সঙ্গে দরদামও ঠিক হয়েছিল। কিন্তু নামজারি করতে গিয়ে দেখি, সার্ভারে বালিয়াল মৌজার আরএস অপশনই নেই।” এতে জমি রেজিস্ট্রির প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, “সমস্যাটি স্থানীয় ভূমি কার্যালয়ের নয়; সরকারি ভূমি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সফটওয়্যারে থাকা সাপোর্ট অপশনের মাধ্যমে জানানোর পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এটি একটি সাময়িক সমস্যা এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

ঘোড়াঘাটে অনলাইনে ই-নামজারি সিস্টেমে মৌজার তথ্য ও আরএস রেকর্ডের অপশন না থাকায় থমকে আছে নামজারি, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

আপডেটের সময় : ০১:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
 দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ডিজিটাল ভূমিসেবার প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে কয়েকটি মৌজার শত শত ভূমি মালিক ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও ই-নামজারি সিস্টেমে মৌজার তথ্য নেই, আবার কোথাও আরএস (RS) রেকর্ডের অপশন না থাকায় নামজারি, জমি বিক্রি ও রেজিস্ট্রি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জমি বিক্রি, রেজিস্ট্রি ও জরুরি প্রয়োজনে অর্থসংস্থানে বিপাকে পড়েছেন ভূমি মালিকরা।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াঘাট উপজেলার ১১৫টি মৌজার মধ্যে ১০৯ নম্বর কালুপুকুর মৌজার তথ্য বর্তমানে ই-নামজারি সিস্টেমে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এ মৌজার ভূমি মালিকরা অনলাইনে নামজারির আবেদনই সম্পন্ন করতে পারছেন না। অন্যদিকে বালিয়াডাঙ্গী ও পালশা ইউনিয়নের দুটি মৌজাসহ প্রায় ৭ থেকে ১০টি মৌজায় দাগ ও খতিয়ানের তথ্য দেওয়ার পর জরিপের ধরন নির্বাচন করতে গিয়ে আরএস (RS) রেকর্ডের অপশন পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এসব মৌজায় বর্তমানে আরএস রেকর্ড অনুসারেই নামজারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ভূমি মালিকদের অভিযোগ, অনলাইন ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণে ই-মিউটেশন আবেদন সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। নামজারি না হওয়ায় জমি বিক্রির প্রক্রিয়াও আটকে যাচ্ছে। কেউ চিকিৎসার খরচ মেটাতে জমি বিক্রি করতে চাইলেও পারছেন না, আবার কেউ সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ি নির্মাণ কিংবা ব্যবসার প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।
কালুপুকুর মৌজার বাসিন্দা আমতাজ উদ্দিন তালুকদার বলেন, “আমি জটিল হৃদরোগ ও কিডনি রোগে ভুগছি। প্রতি মাসে চিকিৎসার পেছনে প্রচুর টাকা ব্যয় হয়। খরচের জোগান দিতে জমি বিক্রি করতে চাইলেও নামজারির আবেদন করতে গিয়ে দেখি অনলাইন সিস্টেমে মৌজার তথ্যই নেই। প্রায় এক মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরেও সমাধান পাইনি।” জমি বিক্রি করতে না পারায় তার চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলার বালিয়াল মৌজার রেহেনা আক্তার চৌধুরী বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান ও সংসারের দায়িত্ব আমার কাঁধে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ সংসারের প্রয়োজন মেটাতে শেষ সম্বল জমিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিই। ক্রেতার সঙ্গে দরদামও ঠিক হয়েছিল। কিন্তু নামজারি করতে গিয়ে দেখি, সার্ভারে বালিয়াল মৌজার আরএস অপশনই নেই।” এতে জমি রেজিস্ট্রির প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, “সমস্যাটি স্থানীয় ভূমি কার্যালয়ের নয়; সরকারি ভূমি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সফটওয়্যারে থাকা সাপোর্ট অপশনের মাধ্যমে জানানোর পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এটি একটি সাময়িক সমস্যা এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”