ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

পুঠিয়ায় সরকারি বরাদ্ধের সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ডিলারদের দাবি নিয়ম মেনেই সার বিতরণ হচ্ছে 

রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় প্রয়োজনমতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারনে কৃষকরা চাষাবাদে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে সংকটে পড়ছে। তবে ডিলার ও স্থানীয় সার ব্যবসায়ীদের দাবি সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বানেশ্বর বাজারের সার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।

স্থানীয় সার ব্যবসায়ীরা জানান, মাসিক বরাদ্দের সার আসার সঙ্গে সঙ্গে বানেশ্বর ব্লকের তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। তাঁদের উপস্থিতিতে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। ফলে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ নেই বলেও দাবি তাঁদের।

বানেশ্বর ইউনিয়নের বালিয়াঘাটি এলাকার কৃষক সুমন আলী বলেন, ‘‘আমাদের এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহেদা খাতুন নিয়মিত মাঠে আসেন। জমি পরিদর্শন করে কার কতটা সার প্রয়োজন, তার তালিকা করা হয়। পরে সেই অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়।’’

দিঘলকান্দি এলাকার কৃষক মাহি বলেন, তাঁদের এলাকার জমি উঁচু হওয়ায় সবজি, কলা ও পেঁপের মতো ফসল বেশি চাষ হয়। এসব ফসলে টিএসপি সারের প্রয়োজন বেশি। কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাঁরা নিয়ম মেনেই মাসিক সার পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। শাহবাজপুর এলাকার কৃষক মাসুদ রানা বলেন, ‘‘আমরা মাসে একবার সার পাই। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের সার বিক্রি বন্ধ থাকায় আশা করছি, এখন সঠিক দামে সার পাওয়া যাবে।’’

সার ডিলার ওসমান আলী বলেন, ‘‘আমরা মাসে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ পাই, তা কৃষকদের চাহিদার তুলনায় খুবই কম। নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের ৪০ শতাংশ খুচরা ব্যবসায়ীদের এবং ৬০ শতাংশ কৃষকদের দেওয়ার কথা। সার আসার সঙ্গে সঙ্গে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তাঁদের উপস্থিতিতে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। এখানে অনিয়মের সুযোগ নেই।’’

বানেশ্বর ইউনিয়নের তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা মেনেই সার বিতরণ করা হচ্ছে। ডিলারদের কাছ থেকে সার আসার তথ্য পাওয়ার পর তাঁরা সরেজমিনে উপস্থিত থেকে বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন। তাঁরা আরও বলেন, পুকুরে টিএসপি সারের ব্যবহার কমানো গেলে বাজারে সারের ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে। তবে কৃষকদের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। বরাদ্দ পর্যাপ্ত হলে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তিও কমবে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, চাষাবাদের মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত বরাদ্দ বাড়ানো হোক। এতে একদিকে যেমন কৃষকের সারপ্রাপ্তির ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাও থাকবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

পুঠিয়ায় সরকারি বরাদ্ধের সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ডিলারদের দাবি নিয়ম মেনেই সার বিতরণ হচ্ছে 

আপডেটের সময় : ১২:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় প্রয়োজনমতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারনে কৃষকরা চাষাবাদে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে সংকটে পড়ছে। তবে ডিলার ও স্থানীয় সার ব্যবসায়ীদের দাবি সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বানেশ্বর বাজারের সার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।

স্থানীয় সার ব্যবসায়ীরা জানান, মাসিক বরাদ্দের সার আসার সঙ্গে সঙ্গে বানেশ্বর ব্লকের তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। তাঁদের উপস্থিতিতে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। ফলে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ নেই বলেও দাবি তাঁদের।

বানেশ্বর ইউনিয়নের বালিয়াঘাটি এলাকার কৃষক সুমন আলী বলেন, ‘‘আমাদের এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহেদা খাতুন নিয়মিত মাঠে আসেন। জমি পরিদর্শন করে কার কতটা সার প্রয়োজন, তার তালিকা করা হয়। পরে সেই অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়।’’

দিঘলকান্দি এলাকার কৃষক মাহি বলেন, তাঁদের এলাকার জমি উঁচু হওয়ায় সবজি, কলা ও পেঁপের মতো ফসল বেশি চাষ হয়। এসব ফসলে টিএসপি সারের প্রয়োজন বেশি। কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাঁরা নিয়ম মেনেই মাসিক সার পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। শাহবাজপুর এলাকার কৃষক মাসুদ রানা বলেন, ‘‘আমরা মাসে একবার সার পাই। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের সার বিক্রি বন্ধ থাকায় আশা করছি, এখন সঠিক দামে সার পাওয়া যাবে।’’

সার ডিলার ওসমান আলী বলেন, ‘‘আমরা মাসে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ পাই, তা কৃষকদের চাহিদার তুলনায় খুবই কম। নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের ৪০ শতাংশ খুচরা ব্যবসায়ীদের এবং ৬০ শতাংশ কৃষকদের দেওয়ার কথা। সার আসার সঙ্গে সঙ্গে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তাঁদের উপস্থিতিতে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। এখানে অনিয়মের সুযোগ নেই।’’

বানেশ্বর ইউনিয়নের তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা মেনেই সার বিতরণ করা হচ্ছে। ডিলারদের কাছ থেকে সার আসার তথ্য পাওয়ার পর তাঁরা সরেজমিনে উপস্থিত থেকে বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন। তাঁরা আরও বলেন, পুকুরে টিএসপি সারের ব্যবহার কমানো গেলে বাজারে সারের ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে। তবে কৃষকদের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। বরাদ্দ পর্যাপ্ত হলে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তিও কমবে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, চাষাবাদের মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত বরাদ্দ বাড়ানো হোক। এতে একদিকে যেমন কৃষকের সারপ্রাপ্তির ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাও থাকবে না।