ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারে একসঙ্গে ১০০ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে

জেলার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারে একসঙ্গে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। গত বুধবার বিকেলে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরলে জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। পরে আলীপুরের সিফাত ফিসে দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে এসব ইলিশ প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এফবি আব্দুল্লাহ নামের ট্রলারটির মাঝি বাদশা মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ জন জেলেকে নিয়ে এক দিন আগে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। এ সময় ট্রলারে প্রায় দেড় লাখ টাকার বাজার-সদাই নেয়া হয়। এক দিন সাগরে অবস্থানের পর পশ্চিমের বয়া সংলগ্ন এলাকায় জেলেদের জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। গতকাল বুধবার বিকেলে ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসে। পরে সিফাত ফিসে দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ বিক্রি হয়। এসব মাছের মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

ট্রলারের মাঝি বাদশা মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। হঠাৎ পশ্চিমের বয়া এলাকায় জাল ফেললে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। তবে মাছগুলো তুলনামূলক ছোট। প্রায় ৩০ লাখ টাকায় এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে। সিফাত ফিসের মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, হঠাৎ একটি ট্রলার ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে আসে। দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেচাকেনা হয়েছে। নিয়মিত এভাবে ইলিশ পাওয়া গেলে মৎস্য ব্যবসায়ীদের আগের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যবসায় গতি ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরে কিছুদিন ইলিশের সংকট ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টি হলে ইলিশের আহরণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ ইলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন। আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। প্রতিদিন এ বন্দরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের বেচাকেনা হয়। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় স্থানীয় জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইলিশের এ প্রাচুর্য অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে মৎস্য ব্যবসায়ে আরও গতি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারে একসঙ্গে ১০০ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে

আপডেটের সময় : ০৭:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

জেলার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারে একসঙ্গে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। গত বুধবার বিকেলে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরলে জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। পরে আলীপুরের সিফাত ফিসে দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে এসব ইলিশ প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এফবি আব্দুল্লাহ নামের ট্রলারটির মাঝি বাদশা মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ জন জেলেকে নিয়ে এক দিন আগে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। এ সময় ট্রলারে প্রায় দেড় লাখ টাকার বাজার-সদাই নেয়া হয়। এক দিন সাগরে অবস্থানের পর পশ্চিমের বয়া সংলগ্ন এলাকায় জেলেদের জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। গতকাল বুধবার বিকেলে ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসে। পরে সিফাত ফিসে দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ বিক্রি হয়। এসব মাছের মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

ট্রলারের মাঝি বাদশা মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। হঠাৎ পশ্চিমের বয়া এলাকায় জাল ফেললে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। তবে মাছগুলো তুলনামূলক ছোট। প্রায় ৩০ লাখ টাকায় এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে। সিফাত ফিসের মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, হঠাৎ একটি ট্রলার ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে আসে। দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেচাকেনা হয়েছে। নিয়মিত এভাবে ইলিশ পাওয়া গেলে মৎস্য ব্যবসায়ীদের আগের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যবসায় গতি ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরে কিছুদিন ইলিশের সংকট ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টি হলে ইলিশের আহরণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ ইলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন। আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। প্রতিদিন এ বন্দরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের বেচাকেনা হয়। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় স্থানীয় জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইলিশের এ প্রাচুর্য অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে মৎস্য ব্যবসায়ে আরও গতি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।