ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকির পর আবার  তাদের বিরুদ্ধেই মামলা বিএনপি নেতার

শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিককে মারধর ও কয়েকজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠা জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা এবার কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন। গত বুধবার রাতে তিনি পালং মডেল থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। অন্যদিকে মারধরের শিকার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তা মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ ওঠার পরও আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি বিএনপি। বরং শরীয়তপুরে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিককে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেছেন, ‘তিন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় সাংবাদিক বরকত মোল্লা তার অনুপস্থিতিতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লাও কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা নথিভুক্ত করা হবে।’

গত শনিবার রাতে জেলা প্রশাসন জেলা প্রেস ক্লাবকে লিখিত নোটিশ না দিয়ে প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল তার ফেসবুক পোস্টে প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানান। এর পরদিন রবিবার সকালে ইসরাফিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার ডান হাতের কবজি ভেঙে যায়।

ইসরাফিলের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় রবিবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শরীয়তপুরের সাংবাদিকেরা। কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। সাংবাদিকদের এই কর্মসূচির পর বিএনপির একটি পক্ষ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয় বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেস ক্লাব ও কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

সোমবার বিএনপির একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে কথা বলে। পরে তারা পৃথক সভা করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বিএনপির ওই পক্ষ। এতে বিএনপির জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের দাবি, কয়েকশ মানুষ ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।

বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহকে মারধর করা হয়। সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান ওরফে আমানসহ কয়েকজন তাদের মারধর করেন।

মারধরের পর ওই দিন বিকালে আরিফুজ্জামান মোল্লা আরও কয়েকজন সাংবাদিককে মোবাইলে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ। জাজিরা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সোনালী নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি পলাশ খানের মোবাইলে দেওয়া হুমকির একটি অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। সেখানে আরিফুজ্জামান মোল্লাকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মারধরের হুমকি এবং তাদের ‘তালিকায়’ থাকার কথা বলতে শোনা যায়। রবিবার সকালে হামলার শিকার সময় টিভির সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল পালং মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলার আসামি পলাশ সরদার পরে ইসরাফিলের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বুধবার সন্ধ্যায় দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত মোল্লা পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান ওরফে আমান এবং যুবলীগের কর্মী রুবেল মাদবরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আরও দুজন সাংবাদিক জিডির জন্য থানায় লিখিত আবেদন করেছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বরকত মোল্লা বলেছেন, ‘মামলা করার জন্য থানায় গেলে ওসি তাদের এড়িয়ে থানা থেকে বের হয়ে যান। পরে তাকে ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপারকেও ফোন করে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় থানায় অপেক্ষা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসতে হয়েছে। পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকেসহ অন্য সাংবাদিকদের ভয় দেখাচ্ছেন।’

এখন টিভির শরীয়তপুর প্রতিনিধি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিনা নোটিশে প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির একটি পক্ষ বিক্ষোভ করে। তিনি বলেন, ‘তিন সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। এরপর অব্যাহতভাবে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।’

শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বললেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি এবং প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা কোনোভাবেই হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’ শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল হক মোল্লার ভাষ্য, ‘ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর সাংবাদিকতার আড়ালে মব সৃষ্টি করে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএনপিও প্রতিবাদ করেছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকির পর আবার  তাদের বিরুদ্ধেই মামলা বিএনপি নেতার

আপডেটের সময় : ০৮:১২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিককে মারধর ও কয়েকজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠা জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা এবার কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন। গত বুধবার রাতে তিনি পালং মডেল থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। অন্যদিকে মারধরের শিকার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তা মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ ওঠার পরও আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি বিএনপি। বরং শরীয়তপুরে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিককে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেছেন, ‘তিন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় সাংবাদিক বরকত মোল্লা তার অনুপস্থিতিতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লাও কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা নথিভুক্ত করা হবে।’

গত শনিবার রাতে জেলা প্রশাসন জেলা প্রেস ক্লাবকে লিখিত নোটিশ না দিয়ে প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল তার ফেসবুক পোস্টে প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানান। এর পরদিন রবিবার সকালে ইসরাফিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার ডান হাতের কবজি ভেঙে যায়।

ইসরাফিলের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় রবিবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শরীয়তপুরের সাংবাদিকেরা। কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। সাংবাদিকদের এই কর্মসূচির পর বিএনপির একটি পক্ষ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয় বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেস ক্লাব ও কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

সোমবার বিএনপির একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে কথা বলে। পরে তারা পৃথক সভা করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বিএনপির ওই পক্ষ। এতে বিএনপির জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের দাবি, কয়েকশ মানুষ ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।

বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহকে মারধর করা হয়। সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান ওরফে আমানসহ কয়েকজন তাদের মারধর করেন।

মারধরের পর ওই দিন বিকালে আরিফুজ্জামান মোল্লা আরও কয়েকজন সাংবাদিককে মোবাইলে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ। জাজিরা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সোনালী নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি পলাশ খানের মোবাইলে দেওয়া হুমকির একটি অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। সেখানে আরিফুজ্জামান মোল্লাকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মারধরের হুমকি এবং তাদের ‘তালিকায়’ থাকার কথা বলতে শোনা যায়। রবিবার সকালে হামলার শিকার সময় টিভির সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল পালং মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলার আসামি পলাশ সরদার পরে ইসরাফিলের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বুধবার সন্ধ্যায় দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত মোল্লা পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান ওরফে আমান এবং যুবলীগের কর্মী রুবেল মাদবরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আরও দুজন সাংবাদিক জিডির জন্য থানায় লিখিত আবেদন করেছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বরকত মোল্লা বলেছেন, ‘মামলা করার জন্য থানায় গেলে ওসি তাদের এড়িয়ে থানা থেকে বের হয়ে যান। পরে তাকে ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপারকেও ফোন করে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় থানায় অপেক্ষা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসতে হয়েছে। পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকেসহ অন্য সাংবাদিকদের ভয় দেখাচ্ছেন।’

এখন টিভির শরীয়তপুর প্রতিনিধি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিনা নোটিশে প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির একটি পক্ষ বিক্ষোভ করে। তিনি বলেন, ‘তিন সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। এরপর অব্যাহতভাবে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।’

শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বললেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি এবং প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা কোনোভাবেই হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’ শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল হক মোল্লার ভাষ্য, ‘ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর সাংবাদিকতার আড়ালে মব সৃষ্টি করে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএনপিও প্রতিবাদ করেছে।’