ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

কক্সবাজারে পর্যটক সেবার আড়ালে অবৈধ রেন্ট-এ বাইকের রমরমা ব্যবসা, নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা

পর্যটকদের দ্রুত চলাচলের সুবিধার কথা বলে কক্সবাজারে চলছে রেন্ট-এ-বাইক ব্যবসা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে—এই ব্যবসার আড়ালে চলছে কাগজপত্রহীন ও কথিত ‘বর্ডার ক্রস’ মোটরসাইকেল ভাড়ার কারবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বাইকের বৈধতা নিয়ে, কীভাবে পর্যটন নগরীর রাস্তায় অবাধে চলছে? আর প্রশাসনের চোখের সামনেই বা কীভাবে চলছে এই ব্যবসা? এ অবৈধ মটরসাইকেলের কারনে চরম নিরাপত্তার শঙ্কায় পড়েছে পর্যটক ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, সমুদ্রের ঢেউ দেখতে, পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন কক্সবাজারে আসেন হাজারো পর্যটক। আর পর্যটকদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ করে দিতে গড়ে উঠেছে রেন্ট-এ-বাইক ব্যবসা।শহরের কলাতলী ডলফিন মোড়, সুগন্ধা পয়েন্ট ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের ফুটপাত দখল করে একহাজারও অধিক রয়েল এনফিল্ড, আরওয়ান ফাইভ এর দামী দামী ব্র্যান্ডের বাইক দিয়ে রেন্ট-এ বাইক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যার মধ্যে বেশির ভাগ অবৈধ বর্ডার ক্রস মোটরসাইকেল।
অভিভাবকরা বলছেন, ঘণ্টায় দুইশ থেকে চারশত টাকা কিংবা দৈনিক তিন থেকে চারহাজার টাকা হিসেবে পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মোটরসাইকেল। অভিযোগ রয়েছে, এসব বাইকের কিছু এসেছে সীমান্তপথে। স্থানীয়দের ভাষায়—‘বর্ডার ক্রস’ বাইক। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এসব মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র কোথায়? কারা আনছে? কারা বিক্রি করছে? আর কারা ভাড়া দিচ্ছে?

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন স্পটগুলোতে প্রকাশ্যেই চলছে এই ব্যবসা। কিন্তু কার্যকর নজরদারি নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। শুধু রাজস্ব ফাঁকি কিংবা বৈধতার প্রশ্ন নয়—রেন্ট-এ-বাইকে পর্যটকদের হাতে অপরিচিত মোটরসাইকেল তুলে দেওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। মেরিন ড্রাইভ সড়কে প্রতিনিয়ত ভাড়ছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।
অভিযোগ রয়েছে,বিশেষ চিহ্ন ‘C’ ব্যবহার করছে বাইক গুলোতে! প্রশ্ন হলো বিশেষ চিহ্ন ‘C’ টা কেন ব্যবহার করছে তারা! অনেক চালকের নেই পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা। কারও মাথায় নেই হেলমেট। আবার কেউ কেউ ছুটছেন বেপরোয়া গতিতে।
একটি দুর্ঘটনা—আর তখন দায় নেবে কে?

কক্সবাজার শহর পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর খসরু পারভেজ জানান, নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র, নিবন্ধন ও চালকের বৈধ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—বর্ডার পেরিয়ে আসা কথিত অবৈধ বাইক যদি পর্যটকদের হাতে যায়, তাহলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? আর এত বড় পর্যটন এলাকায় দিনের পর দিন যদি এভাবে চলতে থাকে নিরাপত্তার প্রশ্ন থেকেই যায়।

পর্যটকদের চলাচলের সুবিধার জন্য রেন্ট-এ-বাইক—এটি স্বাভাবিক একটি সেবা। কিন্তু সেই সেবার আড়ালে যদি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা মোটরসাইকেল ভাড়া দেওয়া হয়, তাহলে সেটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়—পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
এখন প্রশ্ন একটাই—প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই ব্যবসার বিরুদ্ধে কবে হবে কার্যকর অভিযান।

পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বৈধ পরিবহন ব্যবস্থা চান সংশ্লিষ্টরা। তবে কথিত বর্ডার ক্রস বাইকের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

কক্সবাজারে পর্যটক সেবার আড়ালে অবৈধ রেন্ট-এ বাইকের রমরমা ব্যবসা, নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা

আপডেটের সময় : ১০:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পর্যটকদের দ্রুত চলাচলের সুবিধার কথা বলে কক্সবাজারে চলছে রেন্ট-এ-বাইক ব্যবসা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে—এই ব্যবসার আড়ালে চলছে কাগজপত্রহীন ও কথিত ‘বর্ডার ক্রস’ মোটরসাইকেল ভাড়ার কারবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বাইকের বৈধতা নিয়ে, কীভাবে পর্যটন নগরীর রাস্তায় অবাধে চলছে? আর প্রশাসনের চোখের সামনেই বা কীভাবে চলছে এই ব্যবসা? এ অবৈধ মটরসাইকেলের কারনে চরম নিরাপত্তার শঙ্কায় পড়েছে পর্যটক ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, সমুদ্রের ঢেউ দেখতে, পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন কক্সবাজারে আসেন হাজারো পর্যটক। আর পর্যটকদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ করে দিতে গড়ে উঠেছে রেন্ট-এ-বাইক ব্যবসা।শহরের কলাতলী ডলফিন মোড়, সুগন্ধা পয়েন্ট ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের ফুটপাত দখল করে একহাজারও অধিক রয়েল এনফিল্ড, আরওয়ান ফাইভ এর দামী দামী ব্র্যান্ডের বাইক দিয়ে রেন্ট-এ বাইক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যার মধ্যে বেশির ভাগ অবৈধ বর্ডার ক্রস মোটরসাইকেল।
অভিভাবকরা বলছেন, ঘণ্টায় দুইশ থেকে চারশত টাকা কিংবা দৈনিক তিন থেকে চারহাজার টাকা হিসেবে পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মোটরসাইকেল। অভিযোগ রয়েছে, এসব বাইকের কিছু এসেছে সীমান্তপথে। স্থানীয়দের ভাষায়—‘বর্ডার ক্রস’ বাইক। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এসব মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র কোথায়? কারা আনছে? কারা বিক্রি করছে? আর কারা ভাড়া দিচ্ছে?

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন স্পটগুলোতে প্রকাশ্যেই চলছে এই ব্যবসা। কিন্তু কার্যকর নজরদারি নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। শুধু রাজস্ব ফাঁকি কিংবা বৈধতার প্রশ্ন নয়—রেন্ট-এ-বাইকে পর্যটকদের হাতে অপরিচিত মোটরসাইকেল তুলে দেওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। মেরিন ড্রাইভ সড়কে প্রতিনিয়ত ভাড়ছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।
অভিযোগ রয়েছে,বিশেষ চিহ্ন ‘C’ ব্যবহার করছে বাইক গুলোতে! প্রশ্ন হলো বিশেষ চিহ্ন ‘C’ টা কেন ব্যবহার করছে তারা! অনেক চালকের নেই পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা। কারও মাথায় নেই হেলমেট। আবার কেউ কেউ ছুটছেন বেপরোয়া গতিতে।
একটি দুর্ঘটনা—আর তখন দায় নেবে কে?

কক্সবাজার শহর পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর খসরু পারভেজ জানান, নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র, নিবন্ধন ও চালকের বৈধ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—বর্ডার পেরিয়ে আসা কথিত অবৈধ বাইক যদি পর্যটকদের হাতে যায়, তাহলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? আর এত বড় পর্যটন এলাকায় দিনের পর দিন যদি এভাবে চলতে থাকে নিরাপত্তার প্রশ্ন থেকেই যায়।

পর্যটকদের চলাচলের সুবিধার জন্য রেন্ট-এ-বাইক—এটি স্বাভাবিক একটি সেবা। কিন্তু সেই সেবার আড়ালে যদি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা মোটরসাইকেল ভাড়া দেওয়া হয়, তাহলে সেটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়—পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
এখন প্রশ্ন একটাই—প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই ব্যবসার বিরুদ্ধে কবে হবে কার্যকর অভিযান।

পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বৈধ পরিবহন ব্যবস্থা চান সংশ্লিষ্টরা। তবে কথিত বর্ডার ক্রস বাইকের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।