ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

কলকাকলি স্টেশন থেকে জ্ঞানের যাত্রা; পুঠিয়ায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার ছিল উৎসবের আবহ। একদিকে ২০২৫ সালের প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, দুইয়ের মেলবন্ধনে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।১৬ জুলাই বিকেল ৩টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর পথে’, সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।এ বছর বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ৮ জন ট্যালেন্টপুল এবং ২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

তবে শুধু বৃত্তির সাফল্যই নয়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের নজর কাড়ে বিদ্যালয়ের অনন্য সাজসজ্জা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। বিদ্যালয়ের ভেতরে নির্মিত হয়েছে প্রতীকী একটি রেলস্টেশন, নাম ‘কলকাকলি স্টেশন’। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে কল্পনার ট্রেন ‘জ্ঞানের আলো এক্সপ্রেস’। ট্রেনটির গন্তব্য লেখা, ‘বিদ্যালয় টু মহাকাশ’।

এই প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, কোমলমতি শিশুরা তাদের জীবনের শিক্ষাযাত্রা শুরু করবে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। ধাপে ধাপে জ্ঞান অর্জন করে তারা একদিন পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে মহাকাশসম বিস্তৃত জ্ঞানভুবনে পৌঁছাবে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখানো এবং পাঠ্যবইয়ের বাইরেও মননশীল ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানোর এমন উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা খাতুনের সৃজনশীল ভাবনা ও উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই পরিবেশকে অনেকেই শিক্ষার নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। অতিথিদের ভাষায়, শুধু পাঠদান নয়, শিশুদের কল্পনাশক্তি, নৈতিকতা ও সৌন্দর্যবোধ বিকাশে এমন পরিবেশ অত্যন্ত কার্যকর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহসিন আলী। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবু তাহের সরকার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা খাতুন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর পথে’-এর সভাপতি আব্দুস ছালামসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করা, তাদের সাফল্যকে উদযাপন করা এবং নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যেন একটি বার্তাই ছড়িয়ে দেয়—স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয় ছোট্ট একটি বিদ্যালয় থেকেই; আর সেই যাত্রার শেষ গন্তব্য হতে পারে মহাকাশসম বিস্তৃত জ্ঞানের পৃথিবী। #

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

কলকাকলি স্টেশন থেকে জ্ঞানের যাত্রা; পুঠিয়ায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা

আপডেটের সময় : ০৮:৪৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার ছিল উৎসবের আবহ। একদিকে ২০২৫ সালের প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, দুইয়ের মেলবন্ধনে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।১৬ জুলাই বিকেল ৩টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর পথে’, সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।এ বছর বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ৮ জন ট্যালেন্টপুল এবং ২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

তবে শুধু বৃত্তির সাফল্যই নয়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের নজর কাড়ে বিদ্যালয়ের অনন্য সাজসজ্জা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। বিদ্যালয়ের ভেতরে নির্মিত হয়েছে প্রতীকী একটি রেলস্টেশন, নাম ‘কলকাকলি স্টেশন’। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে কল্পনার ট্রেন ‘জ্ঞানের আলো এক্সপ্রেস’। ট্রেনটির গন্তব্য লেখা, ‘বিদ্যালয় টু মহাকাশ’।

এই প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, কোমলমতি শিশুরা তাদের জীবনের শিক্ষাযাত্রা শুরু করবে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। ধাপে ধাপে জ্ঞান অর্জন করে তারা একদিন পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে মহাকাশসম বিস্তৃত জ্ঞানভুবনে পৌঁছাবে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখানো এবং পাঠ্যবইয়ের বাইরেও মননশীল ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানোর এমন উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা খাতুনের সৃজনশীল ভাবনা ও উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই পরিবেশকে অনেকেই শিক্ষার নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। অতিথিদের ভাষায়, শুধু পাঠদান নয়, শিশুদের কল্পনাশক্তি, নৈতিকতা ও সৌন্দর্যবোধ বিকাশে এমন পরিবেশ অত্যন্ত কার্যকর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহসিন আলী। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবু তাহের সরকার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা খাতুন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর পথে’-এর সভাপতি আব্দুস ছালামসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করা, তাদের সাফল্যকে উদযাপন করা এবং নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যেন একটি বার্তাই ছড়িয়ে দেয়—স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয় ছোট্ট একটি বিদ্যালয় থেকেই; আর সেই যাত্রার শেষ গন্তব্য হতে পারে মহাকাশসম বিস্তৃত জ্ঞানের পৃথিবী। #