নড়াইলের কালিয়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামে এক বাক্প্রতিবন্ধী তরুণীকে (২০) ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার খালাতো ভাই আমির মুন্সীর (৩৫) বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট সকালে ওই তরুণীকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগীর বোন।এ ঘটনায় অভিযুক্ত আমির মুন্সিকে এজাহার দায়েরের ৫ ঘন্টার মধ্যে আটক করেছে কালিয়া থানা পুলিশ। সে সিদ্দিক মুন্সির ছেলে।
এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাক্প্রতিবন্ধী ওই তরুণী রাজাপুর গ্রামে তার বড় বোনের বাড়িতে থাকতেন। জীবিকার তাগিদে ভিকটিমের বড় বোন প্রতিদিন তেরখাদায় সেলাইয়ের কাজে যান। এ ছাড়া তার একমাত্র ভাগ্নেও দিনের বেলায় স্কুলে থাকায় বাড়িতে দীর্ঘ সময় একা থাকতেন ওই তরুণী। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে আমির মুন্সী বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
সর্বশেষ ২১ আগস্ট সকালে বাড়িতে একা থাকার সুযোগে আমির মুন্সী ঘরে প্রবেশ করে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্তের চাচি বিষয়টি দেখতে পেয়ে ভুক্তভোগীর বড় বোনকে জানান। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ভুক্তভোগীর বোন বলেন, “আমার বোন কথা বলতে পারে না। এ কারণে এতদিন তার ওপর চলা নির্যাতনের কথা কাউকে জানাতে পারেনি। একজন বোন হিসেবে আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অভিযুক্ত আমির মুন্সীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইদ্রিস আলী জানান, লিখিত এজাহার পাওয়ার পরেই অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে আটক করা হয়েছে।ভিকটিম তরুণীর প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্টে প্রেরণ করা হবে।
নড়াইল প্রতিনিধি: 


















