ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
যশোরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে খুলনার আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপমহাপরিচালকের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি তার নিজস্ব দর্শন, স্বতন্ত্র নীতি ও নিরাময় ক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে গণআকাঙ্ক্ষা নস্যাতের চক্রান্ত রুখে দিতে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চে খুলনাবাসীকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে : মঞ্জু ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার-এই সম্প্রীতির বন্ধন আমাদের ঐতিহ্য : আলী আসগার লবি এমপি ধর্মীয় অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের নজির সৃষ্টি করেছে বিএনপি সংখ্যালঘু নয় ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির কয়রা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি : বাপ্পী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা চর্চায় লাইব্রেরি অটোমেশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: উপাচার্য রামপালের বাঁশতলী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল্লাহর প্রচারণা
জামায়াতের প্রস্তুতি সভায় মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান :

গণআকাঙ্ক্ষা নস্যাতের চক্রান্ত রুখে দিতে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চে খুলনাবাসীকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশ ও দেশবিরোধী অপশক্তির চক্রান্ত নস্যাৎ করতে আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ হবে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। কোনো চক্রান্ত চালিয়ে এ দেশের জাগ্রত জনতা ও গণবিপ্লবের সুসংহত আকাঙক্ষাকে ধূলিসাৎ করা যাবে না। রাজপথের সুশৃঙ্খল আন্দোলনের মাধ্যমে সব চক্রান্তের উপযুক্ত জবাব দিতে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নগরীর শান্তিধাম মোড়ের তারেরপুকুরস্থ দলীয় কার্যালয়ে ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান, মহানগরী অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, সমাজ কল্যাণ বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, দাওয়া ও প্রকাশনা সেক্রেটারি মাওলানা শাহারুল ইসলাম, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর প্রমুখ ।
মহানগরী আমীর মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, দেশের আপামর জনতা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদের অবসান ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রহর গুনছে। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের পর দেশের মানুষ যে মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস ফেলার স্বপ্ন দেখেছিল, সেই অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষী ও দেশবিরোধী গোষ্ঠী আবারও সুসংগঠিত হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা পেছনের দরজা দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে চায় এবং জনগণের বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দিতে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—এ দেশের সচেতন ও সংগ্রামী জনতা আর কোনো স্বৈরাচারী চক্রান্তের কাছে মাথা নত করবে না। ইতিহাস সাক্ষী, জনগণের সুসংহত ঐক্য ও গণজাগরণের সামনে কোনো অপশক্তিই টিকে থাকতে পারেনি। আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ‘ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ’ কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সাধারণ মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক অবরুদ্ধতা থেকে দেশকে মুক্ত করার এক মহা সংগ্রাম। যেকোনো রাজপথের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হলো সাধারণ জনগণ। লংমার্চের উদ্দেশ্য ও দাবিগুলো যখন খুলনার সর্বস্তরের মানুষের কাছে পরিষ্কার হবে, তখন কোনো উসকানি বা বাধা-প্রতিবন্ধকতাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।
তিনি খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, লংমার্চের বার্তা খুলনার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার এবং ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনতে হবে এবং আমাদের এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও গুরুত্ব তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। জনগণ যখন অনুভব করবে যে এই লংমার্চ তাদের নিজেদের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন, তখন তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসে এই কর্মসূচিকে গণসমুদ্র ও গণজাগরণে রূপ দেবে।
মহানগরী আমীর বলেন, ৩১ অক্টোবরের লংমার্চে খুলনা অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো শামিল হবে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট, আমাদের উদ্দীপনা সুদৃঢ়। ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত এই দূরপাল্লার লংমার্চে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করবে যে, সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে একাট্টা হয়েছে। তিনি বলেন, আসুন, হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে আমরা রাজপথে নেমে পড়ি। আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চকে স্মরণকালের সবচেয়ে বৃহৎ ও সফল লংমার্চ হিসেবে গড়ে তুলতে যার যার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। খুলনার প্রতিটি অলিগলি থেকে জনস্রোত তৈরি করে আমরা এই আন্দোলনকে সফলাতার দ্বারে পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ।#

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

যশোরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

জামায়াতের প্রস্তুতি সভায় মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান :

গণআকাঙ্ক্ষা নস্যাতের চক্রান্ত রুখে দিতে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চে খুলনাবাসীকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান

আপডেটের সময় : ০৭:১৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশ ও দেশবিরোধী অপশক্তির চক্রান্ত নস্যাৎ করতে আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ হবে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। কোনো চক্রান্ত চালিয়ে এ দেশের জাগ্রত জনতা ও গণবিপ্লবের সুসংহত আকাঙক্ষাকে ধূলিসাৎ করা যাবে না। রাজপথের সুশৃঙ্খল আন্দোলনের মাধ্যমে সব চক্রান্তের উপযুক্ত জবাব দিতে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নগরীর শান্তিধাম মোড়ের তারেরপুকুরস্থ দলীয় কার্যালয়ে ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান, মহানগরী অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, সমাজ কল্যাণ বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, দাওয়া ও প্রকাশনা সেক্রেটারি মাওলানা শাহারুল ইসলাম, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর প্রমুখ ।
মহানগরী আমীর মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, দেশের আপামর জনতা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদের অবসান ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রহর গুনছে। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের পর দেশের মানুষ যে মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস ফেলার স্বপ্ন দেখেছিল, সেই অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষী ও দেশবিরোধী গোষ্ঠী আবারও সুসংগঠিত হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা পেছনের দরজা দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে চায় এবং জনগণের বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দিতে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—এ দেশের সচেতন ও সংগ্রামী জনতা আর কোনো স্বৈরাচারী চক্রান্তের কাছে মাথা নত করবে না। ইতিহাস সাক্ষী, জনগণের সুসংহত ঐক্য ও গণজাগরণের সামনে কোনো অপশক্তিই টিকে থাকতে পারেনি। আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ‘ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ’ কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সাধারণ মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক অবরুদ্ধতা থেকে দেশকে মুক্ত করার এক মহা সংগ্রাম। যেকোনো রাজপথের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হলো সাধারণ জনগণ। লংমার্চের উদ্দেশ্য ও দাবিগুলো যখন খুলনার সর্বস্তরের মানুষের কাছে পরিষ্কার হবে, তখন কোনো উসকানি বা বাধা-প্রতিবন্ধকতাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।
তিনি খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, লংমার্চের বার্তা খুলনার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার এবং ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনতে হবে এবং আমাদের এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও গুরুত্ব তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। জনগণ যখন অনুভব করবে যে এই লংমার্চ তাদের নিজেদের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন, তখন তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসে এই কর্মসূচিকে গণসমুদ্র ও গণজাগরণে রূপ দেবে।
মহানগরী আমীর বলেন, ৩১ অক্টোবরের লংমার্চে খুলনা অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো শামিল হবে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট, আমাদের উদ্দীপনা সুদৃঢ়। ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত এই দূরপাল্লার লংমার্চে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করবে যে, সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে একাট্টা হয়েছে। তিনি বলেন, আসুন, হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে আমরা রাজপথে নেমে পড়ি। আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চকে স্মরণকালের সবচেয়ে বৃহৎ ও সফল লংমার্চ হিসেবে গড়ে তুলতে যার যার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। খুলনার প্রতিটি অলিগলি থেকে জনস্রোত তৈরি করে আমরা এই আন্দোলনকে সফলাতার দ্বারে পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ।#