পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশায় ঢাকা থেকে রাঙামাটিতে এসে স্থানীয় এক কবিরাজের সঙ্গে দেখা করার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন এম. এ. হোসাইন আজকারী (৬০) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত জাহাজ ক্যাপ্টেন। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত এম. এ. হোসাইন আজকারীর বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর সওদাগর বাড়ি এলাকায়। মৃত্যুসনদ ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, তিনি মৃত আব্দুস সাত্তার ও মৃত হোসনে আরা বেগমের ছেলে।
পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বড় ভাই এম. এ. হাছাইন মাশরাকীর সঙ্গে ঢাকার পান্থপথ থেকে শ্যামলী এন. আর. ট্রাভেলসের বাসে করে রাঙামাটির উদ্দেশে রওনা হন হোসাইন আজকারী। তাঁর বড় ভাইও অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তা। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁরা রাঙামাটি শহরের দোয়েল চত্বরসংলগ্ন হোটেল স্কয়ার পার্কের ৪১৭ নম্বর কক্ষে ওঠেন।
সকাল ১০টার দিকে দুই ভাই হোটেল থেকে বের হয়ে পাশের একটি রেস্টুরেন্টে নাশতা করেন। পরে পারিবারিক সমস্যার সমাধানের উদ্দেশ্যে তাঁরা আসামবস্তি এলাকার স্থানীয় স্বপন কবিরাজের বাসায় যান। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাঁরা হোটেলে ফিরে আসেন।
হোটেলে ফেরার পর বেলা সোয়া ৩টার দিকে হোসাইন আজকারী অসুস্থ বোধ করেন। একপর্যায়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সঙ্গে থাকা বড় ভাই বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে হোটেলের কর্মীরা দ্রুত সিএনজি অটোরিকশায় করে তাঁকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর খান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতের সঙ্গে থাকা তাঁর বড় ভাই এম. এ. হাছাইন মাশরাকীর আচরণ ও কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন বলেন, হোটেল স্কয়ার পার্কে অবস্থানরত এক পর্যটকের মৃত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘটনার সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতের বাড়িসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হোটেল স্কয়ার পার্কের স্বত্বাধিকারী নেয়াজ আহমেদ বলেন, দুই ভাই শনিবার সকালে ঢাকা থেকে হোটেলে এসে লাগেজ রেখে বাইরে চলে যান। পরে হোটেলে ফিরে নিহতের ভাই জানান, তাঁর ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরপর হোটেলের কর্মীরা দ্রুত তাঁকে গাড়িতে করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
বর্তমানে এম. এ. হোসাইন আজকারীর মরদেহ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আশেকীনসহ পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঘটনাটি তদন্ত করছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাঙামাটি প্রতিনিধি 


















