ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭
: ডোনার খুঁজে হিমশিম স্বজনরা :

ডেঙ্গু ভয়াবহতার মধ্যেও খুমেকের প্লাটিলেট সংগ্রহের মেশিনের সেবা ছয় মাস বন্ধ, ডেঙ্গু রোগীদের চরম ভোগান্তি

খুলনাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবার অন্যতম ভরসার স্থল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে প্লাটিলেট সংগ্রহের বিশেষ সেবা। হাসপাতালের প্লাটিলেট সংগ্রহের মেশিন সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় কিট ও ব্যাগের সরবরাহ না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া ডেঙ্গু রোগীদের স্বজনদের বাইরে থেকে ডোনার সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই প্লাটিলেট সংগ্রহের মতো বিশেষায়িত সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রোগীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, প্লাটিলেট সংগ্রহের প্রয়োজনীয় কিট ও ব্যাগের সরবরাহের ব্যবস্থা করতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। সরেজমিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, প্লাটিলেট সংগ্রহের মেশিনে একজন ডোনারের রক্ত থেকে প্রয়োজনীয় প্লাটিলেট আলাদা করে সংগ্রহ করা হয়। ফলে নির্দিষ্ট রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী প্লাটিলেট সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শে প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হলে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন নগরীর নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা চন্দ্রা দাস। তার রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় চার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় ডোনার সংগ্রহ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তার স্বজনরা। চন্দ্রা দাসের স্বজনরা জানান, চার ব্যাগ রক্তের জন্য ডোনার পেতে তাদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এর মধ্যে দুজন ডোনার তারা ম্যানেজ করতে পেরেছেন। কিন্তু আরও দুজন ডোনার এখনো সংগ্রহ করতে পারেননি। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে রেখে একদিকে চিকিৎসার চিন্তা, অন্যদিকে ডোনার খোঁজার এই দৌড়ঝাঁপ তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। শুধু চন্দ্রা দাস নন, একই ধরনের সমস্যায় পড়ছেন প্লাটিলেট কমে যাওয়া অনেক ডেঙ্গু রোগীর স্বজন। প্রয়োজনের সময় হাসপাতালে প্লাটিলেট সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় তাদের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ডোনার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

তবে খুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনীয় কীট ও ব্যাগ না থাকায় প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ফ্লাটিলেট সংগ্রহের মেশিনটি। যার কারণে হাসপাতাল থেকে এর বিশেষ সেবা পাচ্ছে না হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগী। তবে এ বিষয়ে বারবার ডিমান্ড দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় কিট ও ব্যাগ।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট গোলাম মোস্তফা জানান, এর আগে আমাদের ২০০ কিট দেওয়া হয়েছিল। তা শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। আমরা বারবার ডিমান্ড দিয়েও কিট পাচ্ছি না। পর্যাপ্ত পরিমাণ কিট এবং ব্যাগ সরবরাহ করা হলে আমরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে পারব।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আইনুল হক বলেন, “কিটের কথা ন্যাশনাল গাইডলাইনে বলা নেই। রোগীরা চাইলে অনেক সময় এর কিট ব্যবহারের বিষয় আসে। এছাড়া এর কিট অনেক ব্যয় বহুল। রোগীরা ব্যবহার করতে পারবে না। একেকটা কিটের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। তবে আমরা ডিমান্ড দিয়েছি। কিট এবং ব্যাগ আসলে আমরা রোগীদের সেবা দিতে পারব।

তবে রোগী ও স্বজনদের প্রশ্ন, হাসপাতালে মেশিন ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকার পরও শুধু কিট ও ব্যাগের অভাবে কেন ছয় মাস ধরে সেবা বন্ধ থাকবে? বারবার চাহিদাপত্র দেওয়ার পরও কেন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে না? ডেঙ্গু মৌসুমে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাই বা কী ? চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলেই প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। রোগীর শারীরিক অবস্থা, রক্তক্ষরণের লক্ষণ এবং চিকিৎসকের ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই প্লাটিলেট দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়। তবে যেসব রোগীর ক্ষেত্রে রক্ত বা প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

ডেঙ্গু রোগীদের এই ভোগান্তির জন্য সংশ্লিষ্ট খুমেক কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন নাগরিক নেতারা। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ডেঙ্গুর এই প্রাদুর্ভাবের সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাটিলেট সংগ্রহের মেশিনটির কিট ও ব্যাগ নেই এবং এর জন্য সেবাটি বন্ধ রয়েছে, এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সরকার এবং কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে দ্রুততম ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তা না হলে গরিব রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। কারণ ইতিমধ্যেই খুলনাতে ডেঙ্গু রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খুলনার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।  চন্দ্রা দাসের স্বজনদের মতো আর কোনো পরিবারকে যেন একাধিক ডোনার খুঁজতে গিয়ে হাসপাতালের বাইরে ছুটতে না হয়এমন প্রত্যাশাই এখন রোগী ও স্বজনদের। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় কিট ও ব্যাগ সরবরাহ করে প্লাটিলেট সংগ্রহের সেবা চালু করা হোক। এতে ডেঙ্গু রোগীদের জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় রক্ত উপাদান সংগ্রহের পথ সহজ হবে এবং কমবে রোগী-স্বজনদের ভোগান্তি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

: ডোনার খুঁজে হিমশিম স্বজনরা :

ডেঙ্গু ভয়াবহতার মধ্যেও খুমেকের প্লাটিলেট সংগ্রহের মেশিনের সেবা ছয় মাস বন্ধ, ডেঙ্গু রোগীদের চরম ভোগান্তি

আপডেটের সময় : ০৭:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবার অন্যতম ভরসার স্থল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে প্লাটিলেট সংগ্রহের বিশেষ সেবা। হাসপাতালের প্লাটিলেট সংগ্রহের মেশিন সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় কিট ও ব্যাগের সরবরাহ না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া ডেঙ্গু রোগীদের স্বজনদের বাইরে থেকে ডোনার সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই প্লাটিলেট সংগ্রহের মতো বিশেষায়িত সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রোগীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, প্লাটিলেট সংগ্রহের প্রয়োজনীয় কিট ও ব্যাগের সরবরাহের ব্যবস্থা করতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। সরেজমিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, প্লাটিলেট সংগ্রহের মেশিনে একজন ডোনারের রক্ত থেকে প্রয়োজনীয় প্লাটিলেট আলাদা করে সংগ্রহ করা হয়। ফলে নির্দিষ্ট রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী প্লাটিলেট সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শে প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হলে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন নগরীর নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা চন্দ্রা দাস। তার রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় চার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় ডোনার সংগ্রহ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তার স্বজনরা। চন্দ্রা দাসের স্বজনরা জানান, চার ব্যাগ রক্তের জন্য ডোনার পেতে তাদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এর মধ্যে দুজন ডোনার তারা ম্যানেজ করতে পেরেছেন। কিন্তু আরও দুজন ডোনার এখনো সংগ্রহ করতে পারেননি। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে রেখে একদিকে চিকিৎসার চিন্তা, অন্যদিকে ডোনার খোঁজার এই দৌড়ঝাঁপ তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। শুধু চন্দ্রা দাস নন, একই ধরনের সমস্যায় পড়ছেন প্লাটিলেট কমে যাওয়া অনেক ডেঙ্গু রোগীর স্বজন। প্রয়োজনের সময় হাসপাতালে প্লাটিলেট সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় তাদের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ডোনার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

তবে খুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনীয় কীট ও ব্যাগ না থাকায় প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ফ্লাটিলেট সংগ্রহের মেশিনটি। যার কারণে হাসপাতাল থেকে এর বিশেষ সেবা পাচ্ছে না হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগী। তবে এ বিষয়ে বারবার ডিমান্ড দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় কিট ও ব্যাগ।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট গোলাম মোস্তফা জানান, এর আগে আমাদের ২০০ কিট দেওয়া হয়েছিল। তা শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। আমরা বারবার ডিমান্ড দিয়েও কিট পাচ্ছি না। পর্যাপ্ত পরিমাণ কিট এবং ব্যাগ সরবরাহ করা হলে আমরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে পারব।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আইনুল হক বলেন, “কিটের কথা ন্যাশনাল গাইডলাইনে বলা নেই। রোগীরা চাইলে অনেক সময় এর কিট ব্যবহারের বিষয় আসে। এছাড়া এর কিট অনেক ব্যয় বহুল। রোগীরা ব্যবহার করতে পারবে না। একেকটা কিটের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। তবে আমরা ডিমান্ড দিয়েছি। কিট এবং ব্যাগ আসলে আমরা রোগীদের সেবা দিতে পারব।

তবে রোগী ও স্বজনদের প্রশ্ন, হাসপাতালে মেশিন ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকার পরও শুধু কিট ও ব্যাগের অভাবে কেন ছয় মাস ধরে সেবা বন্ধ থাকবে? বারবার চাহিদাপত্র দেওয়ার পরও কেন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে না? ডেঙ্গু মৌসুমে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাই বা কী ? চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলেই প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। রোগীর শারীরিক অবস্থা, রক্তক্ষরণের লক্ষণ এবং চিকিৎসকের ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই প্লাটিলেট দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়। তবে যেসব রোগীর ক্ষেত্রে রক্ত বা প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

ডেঙ্গু রোগীদের এই ভোগান্তির জন্য সংশ্লিষ্ট খুমেক কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন নাগরিক নেতারা। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ডেঙ্গুর এই প্রাদুর্ভাবের সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাটিলেট সংগ্রহের মেশিনটির কিট ও ব্যাগ নেই এবং এর জন্য সেবাটি বন্ধ রয়েছে, এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সরকার এবং কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে দ্রুততম ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তা না হলে গরিব রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। কারণ ইতিমধ্যেই খুলনাতে ডেঙ্গু রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খুলনার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।  চন্দ্রা দাসের স্বজনদের মতো আর কোনো পরিবারকে যেন একাধিক ডোনার খুঁজতে গিয়ে হাসপাতালের বাইরে ছুটতে না হয়এমন প্রত্যাশাই এখন রোগী ও স্বজনদের। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় কিট ও ব্যাগ সরবরাহ করে প্লাটিলেট সংগ্রহের সেবা চালু করা হোক। এতে ডেঙ্গু রোগীদের জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় রক্ত উপাদান সংগ্রহের পথ সহজ হবে এবং কমবে রোগী-স্বজনদের ভোগান্তি।