ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামানসহ তিন শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্ত ও তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটুকে সাময়িক বরখাস্ত ও তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘটনায় সংগঠনটি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, প্রগতিশীল চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘন করে গুরুতর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতিনিধি রাখার পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষককে জেরা করার সুযোগ থাকার কথা থাকলেও অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটু লিখিতভাবে আবেদন করার পরও তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছাড়াই সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ধরনের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক প্রতিহিংসা কিংবা ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে কোনো শিক্ষককে নত করা, ভিন্নমতের কারণে হয়রানি করা কিংবা শাস্তির ভয় দেখিয়ে তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ করার প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।
এতে আরও বলা হয়, মতপার্থক্যের সমাধান যুক্তি, আলোচনা, সহনশীলতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত; প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ বলেছে, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পুনঃপর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীনতার আদর্শের পক্ষে অবস্থানকারী শিক্ষাবিদরা মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে যেন প্রশাসনিক হয়রানি বা শাস্তির আশঙ্কায় নীরব হয়ে না পড়েন, সে বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
মধুমতি ডেস্ক : 


















