নতুন কমিশন দায়িত্ব পালন শুরু করতেই কর্মব্যস্ততা ফিরেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। নতুন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সংস্থাটির সব পর্যায়ের কর্মকর্তাকে কর্মব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনারদ্বয়ও ছিলেন কর্মব্যস্ত। দুদক কমিশনবিহীন সাড়ে পাঁচ মাস। এ সময়ে কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় জমে আছে অনেক ফাইলপত্র। ফাইলপত্রের জট ছাড়াতে নিরলস কাজ করেন তারা। গতকাল দুপুরে কয়েকজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘অনেক কাজ করছি। জমে থাকা অনেক ফাইলপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’ দুদকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কর্মব্যস্ত হয়েছেন বেশি। অনুসন্ধান ও তদন্তের প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহ, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা এবং আসামি ও অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই কমিশনের অনেকের কাজের সীমাবদ্ধতা ছিল গত সাড়ে পাঁচ মাস। কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় আসামি ও অভিযোগসংশ্লিষ্টদের সম্পদ ক্রোক, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, বিদেশ গমনের নিষেধাজ্ঞার প্রক্রিয়াসহ অনেক ধরনের কাজ আটকে আছে। ফলে নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের মতোই তথ্য সংগ্রহ, তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা এবং অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি সব ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জানা গেছে, কমিশনবিহীন সাড়ে পাঁচ মাসে বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখার কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বেশি কর্মব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। তারা কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তকাজ অনিষ্পন্ন রাখেননি। তাদের অধীনে থাকা প্রায় সব অনুসন্ধান ও তদন্তকাজ শেষ করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য কমিশনের দপ্তরে পেশ করে রেখেছেন। তবে বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখার মহাপরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা কিছু ফাইল পুনরায় যাচাই করেছেন, যাতে কমিশনে উপস্থাপনের পর কোনো ভুল ধরা না পড়ে। তবে অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-১, শাখা-২, মানি লন্ডারিং ও ব্যাংক-বিমা শাখায় সেভাবে কার্যক্রম এগোয়নি। বিশেষ করে গত সাড়ে পাঁচ মাসে মানি লন্ডারিং ও ব্যাংক-বিমা শাখায় স্থবিরতা দেখা গেছে। তবে কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের কর্মব্যস্ততা কিছুটা বেড়েছে।
নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ। নির্বাচনি ইশতেহারে দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। দুর্নীতি দমন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেছিল। দুদককে শক্তিশালী ও কার্যকর করার কথাও বলেছিল। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের সাড়ে পাঁচ মাস পর অবশেষে দুদক পুনর্গঠন করেছে। গত ৩ মার্চ দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনসহ পুরো কমিশন পদত্যাগ করে। এরপর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। সার্চ কমিটি ছয়জনের নাম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠায়। সেখান থেকে তিনজনকে কমিশনার নিয়োগ করার পর তিন কমিশনারের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। গত সোমবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও কমিশনার হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদানপত্র দিয়ে বুধবার থেকে দুদকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
মধুমতি ডেস্ক : 


















