ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

পটুয়াখালী ইপিজেডে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০ শিল্প প্লট প্রস্তুত, তাড়াতাড়িই শুরু হচ্ছে বরাদ্দ

পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতোমধ্যে ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। এখানে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট তৈরি করা হচ্ছে। বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. আনোয়ার পারভেজ বাসসকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছি। খুব শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ দেওয়া শুরু করব।’ তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্লট বরাদ্দের কাজ একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই কারখানা স্থাপন করে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে পারেন।

দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই পটুয়াখালী ইপিজেড গড়ে তোলা হচ্ছে। ১ হাজার ৪৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল শুরুতে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও বেপজার মধ্যে জমির দখল ও হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয় ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল।

প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ইপিজেডটিতে প্রায় ১৫৩ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে বছরে প্রায় ১৮৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হবে। এ ছাড়া ইপিজেডটিতে সরাসরি প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে আরও প্রায় ২ লাখ মানুষের। ইপিজেডের অবকাঠামো উন্নয়নকাজও এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে ৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের উন্নয়নকাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, অফিস ভবন, আদর্শ কারখানা ভবন, আবাসিক ভবন, সীমানাপ্রাচীর, পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক, ১১ কেভি উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন এবং ৩৩/১১ কেভি গ্যাস ইনসুলেটেড সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে।

পুনর্বাসন এলাকায় পরিকল্পিত ১৫৪টি বাড়ির মধ্যে প্রায় ১৩০টির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, খেলার মাঠ, কবরস্থান ও ফুটপাত নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ। প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা চারটি আদর্শ কারখানা ভবন, ১০ তলা তিনটি আবাসিক ভবন এবং তিনটি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া একটি সাবস্টেশন, হেলিপ্যাড, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), পয়োনিষ্কাশন বর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) নেটওয়ার্ক এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে ইপিজেডের ভেতরে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৭০০টি ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে।

এদিকে প্রস্তুত প্লটের খবর বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহী করে তুলছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীনের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদল পটুয়াখালী ইপিজেড পরিদর্শন করে সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনের আরও একটি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলও সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রেখেছে বেপজা। বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত শিল্প প্লট ও আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার মাধ্যমে পটুয়াখালী ইপিজেড দক্ষিণাঞ্চলে নতুন শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি রপ্তানি বাড়ানো এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

পটুয়াখালী ইপিজেডে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০ শিল্প প্লট প্রস্তুত, তাড়াতাড়িই শুরু হচ্ছে বরাদ্দ

আপডেটের সময় : ০৯:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতোমধ্যে ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। এখানে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট তৈরি করা হচ্ছে। বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. আনোয়ার পারভেজ বাসসকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছি। খুব শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ দেওয়া শুরু করব।’ তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্লট বরাদ্দের কাজ একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই কারখানা স্থাপন করে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে পারেন।

দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই পটুয়াখালী ইপিজেড গড়ে তোলা হচ্ছে। ১ হাজার ৪৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল শুরুতে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও বেপজার মধ্যে জমির দখল ও হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয় ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল।

প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ইপিজেডটিতে প্রায় ১৫৩ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে বছরে প্রায় ১৮৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হবে। এ ছাড়া ইপিজেডটিতে সরাসরি প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে আরও প্রায় ২ লাখ মানুষের। ইপিজেডের অবকাঠামো উন্নয়নকাজও এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে ৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের উন্নয়নকাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, অফিস ভবন, আদর্শ কারখানা ভবন, আবাসিক ভবন, সীমানাপ্রাচীর, পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক, ১১ কেভি উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন এবং ৩৩/১১ কেভি গ্যাস ইনসুলেটেড সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে।

পুনর্বাসন এলাকায় পরিকল্পিত ১৫৪টি বাড়ির মধ্যে প্রায় ১৩০টির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, খেলার মাঠ, কবরস্থান ও ফুটপাত নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ। প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা চারটি আদর্শ কারখানা ভবন, ১০ তলা তিনটি আবাসিক ভবন এবং তিনটি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া একটি সাবস্টেশন, হেলিপ্যাড, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), পয়োনিষ্কাশন বর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) নেটওয়ার্ক এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে ইপিজেডের ভেতরে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৭০০টি ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে।

এদিকে প্রস্তুত প্লটের খবর বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহী করে তুলছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীনের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদল পটুয়াখালী ইপিজেড পরিদর্শন করে সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনের আরও একটি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলও সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রেখেছে বেপজা। বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত শিল্প প্লট ও আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার মাধ্যমে পটুয়াখালী ইপিজেড দক্ষিণাঞ্চলে নতুন শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি রপ্তানি বাড়ানো এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে