ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

পাকিস্তানকে হারিয়ে টেষ্ট সিরিজ ইংল্যান্ডের

চলতি টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতার শিকার হয়েছে। লর্ডসে ১৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে প্রত্যাশিতভাবেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। তিন টেস্টের সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করল জো রুট বাহিনী। চতুর্থ দিনের সকালে ইংল্যান্ড পাকিস্তানের সামনে ৩৮৯ রানের কঠিন লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং রান তাড়ায় নেমে পাকিস্তান শুরুতেই দ্রুত ৩টি উইকেট হারায়।

এরপর তারা কিছুটা বিপর্যয় সামলে ওঠার চেষ্টা করলেও লড়াই বেশি সময় টিকেনি। শেষ পর্যন্ত তারা ১৯৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। চতুর্থ দিনের সকালে ইংলিশদের ইনিংস গুটিয়ে দিতে পাকিস্তান বেশি সময় নেয়নি। হাফ সেঞ্চুরিয়ান ড্যান লরেন্স পয়েন্ট দিয়ে দারুণ এক চারে দিন শুরু করেন এবং অলি রবিনসন মোহাম্মদ আলীকে পুল করে তার প্রথম বাউন্ডারি হাঁকান। কিন্তু এর পরপরই মোহাম্মদ আব্বাসের একটি ইন-সুইঙ্গার লরেন্সের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেয়। এরপরের বল বাইরের দিকে সুইং করিয়ে রবিনসনের ব্যাটের বাইরের কানায় লাগিয়ে ক্যাচ আউট করেন আব্বাস। তাতে তিনি ৫ উইকেটের মাইলফলক পূরণ করেন। জশ টাং দুটি বাউন্ডারি পেলেও একটি রান আউট দ্রুতই তাদের ইনিংসের ইতি টানে, যার ফলে ইংল্যান্ডের লিড ৪০০ পার হতে পারেনি।
​তবে পাকিস্তানের ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই আভাস পাওয়া যায় যে এই লক্ষ্যটি তাদের জন্য খুবই কঠিন হচ্ছে। রবিনসন প্রথমে আজান আওয়াইসকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এবং একই ওভারে একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে আবদুল্লাহ শাফিকের রক্ষণ ভেঙে অফ স্টাম্প উড়িয়ে দিয়ে তাকে শূন্য রানে বিদায় করেন। পরিস্থিতির আরও দ্রুত অবনতি ঘটে দুই ওভার পর জোফরা আর্চারের আঘাতে। তার একটি শর্ট ডেলিভারিতে বাবর আজম দ্বিধান্বিত হয়ে বল ছাড়তে গিয়ে স্লিপে সহজ ক্যাচ দেন জর্ডান কক্সকে।

​লাঞ্চের আগের সময়টুকু সৌদ শাকিল ও শান মাসুদ কঠিন পরীক্ষা দেম। বেশ কয়েকবার তারা হুমকির মুখে পড়লেও কিছু বাউন্ডারি তুলে নেন, বিরতি পর্যন্ত টিকে থাকেন। দ্রুত খেলা শেষ করার চেষ্টা করতে গিয়ে এই সময়ে ইংল্যান্ড দুটি রিভিউ নষ্ট করে। তবে বিরতির পর শাকিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং মাসুদকে সাথে নিয়ে বেশ কিছু সময় ইংল্যান্ডকে আটকে রাখেন। শাকিল মাত্র ৫৪ বলে তার হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন এবং এর পরপরই বৃষ্টির কারণে প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ থাকে।

খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর রবিনসন আবারও ব্রেকথ্রু এনে দেন। তিনি শান মাসুদের দৃঢ় প্রতিরোধ ভেঙে দেন। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান একটি স্লগ শট খেলতে গিয়ে রবিনসনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। দলের অর্ধেক ব্যাটার আউট হয়ে যাওয়ায় এবং ইমাম-উল-হক ব্যাট করার মতো ফিট না থাকায় ম্যাচের ভাগ্য মূলত তখনই নির্ধারিত হয়ে যায়। আলী ওসমান ৪৪টি বল লড়াই করে টিকে থাকলেও আর্চারের একটি বল উইকেটে টেনে এনে বোল্ড হন।

অন্য প্রান্তে থাকা শাকিল তখন সেঞ্চুরির দিকে এগোতে টাংয়ের এক ওভারেই দুটি ছক্কা হাঁকান। কিন্তু আফসোস এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই তার পতন ডেকে আনে। শতক থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতে তিনি সীমানার কাছে ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। এরপর টাং দ্রুত টেল এন্ডারদের গুটিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের করুণ লড়াইয়ের ইতি টানেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

পাকিস্তানকে হারিয়ে টেষ্ট সিরিজ ইংল্যান্ডের

আপডেটের সময় : ০৭:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

চলতি টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতার শিকার হয়েছে। লর্ডসে ১৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে প্রত্যাশিতভাবেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। তিন টেস্টের সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করল জো রুট বাহিনী। চতুর্থ দিনের সকালে ইংল্যান্ড পাকিস্তানের সামনে ৩৮৯ রানের কঠিন লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং রান তাড়ায় নেমে পাকিস্তান শুরুতেই দ্রুত ৩টি উইকেট হারায়।

এরপর তারা কিছুটা বিপর্যয় সামলে ওঠার চেষ্টা করলেও লড়াই বেশি সময় টিকেনি। শেষ পর্যন্ত তারা ১৯৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। চতুর্থ দিনের সকালে ইংলিশদের ইনিংস গুটিয়ে দিতে পাকিস্তান বেশি সময় নেয়নি। হাফ সেঞ্চুরিয়ান ড্যান লরেন্স পয়েন্ট দিয়ে দারুণ এক চারে দিন শুরু করেন এবং অলি রবিনসন মোহাম্মদ আলীকে পুল করে তার প্রথম বাউন্ডারি হাঁকান। কিন্তু এর পরপরই মোহাম্মদ আব্বাসের একটি ইন-সুইঙ্গার লরেন্সের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেয়। এরপরের বল বাইরের দিকে সুইং করিয়ে রবিনসনের ব্যাটের বাইরের কানায় লাগিয়ে ক্যাচ আউট করেন আব্বাস। তাতে তিনি ৫ উইকেটের মাইলফলক পূরণ করেন। জশ টাং দুটি বাউন্ডারি পেলেও একটি রান আউট দ্রুতই তাদের ইনিংসের ইতি টানে, যার ফলে ইংল্যান্ডের লিড ৪০০ পার হতে পারেনি।
​তবে পাকিস্তানের ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই আভাস পাওয়া যায় যে এই লক্ষ্যটি তাদের জন্য খুবই কঠিন হচ্ছে। রবিনসন প্রথমে আজান আওয়াইসকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এবং একই ওভারে একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে আবদুল্লাহ শাফিকের রক্ষণ ভেঙে অফ স্টাম্প উড়িয়ে দিয়ে তাকে শূন্য রানে বিদায় করেন। পরিস্থিতির আরও দ্রুত অবনতি ঘটে দুই ওভার পর জোফরা আর্চারের আঘাতে। তার একটি শর্ট ডেলিভারিতে বাবর আজম দ্বিধান্বিত হয়ে বল ছাড়তে গিয়ে স্লিপে সহজ ক্যাচ দেন জর্ডান কক্সকে।

​লাঞ্চের আগের সময়টুকু সৌদ শাকিল ও শান মাসুদ কঠিন পরীক্ষা দেম। বেশ কয়েকবার তারা হুমকির মুখে পড়লেও কিছু বাউন্ডারি তুলে নেন, বিরতি পর্যন্ত টিকে থাকেন। দ্রুত খেলা শেষ করার চেষ্টা করতে গিয়ে এই সময়ে ইংল্যান্ড দুটি রিভিউ নষ্ট করে। তবে বিরতির পর শাকিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং মাসুদকে সাথে নিয়ে বেশ কিছু সময় ইংল্যান্ডকে আটকে রাখেন। শাকিল মাত্র ৫৪ বলে তার হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন এবং এর পরপরই বৃষ্টির কারণে প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ থাকে।

খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর রবিনসন আবারও ব্রেকথ্রু এনে দেন। তিনি শান মাসুদের দৃঢ় প্রতিরোধ ভেঙে দেন। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান একটি স্লগ শট খেলতে গিয়ে রবিনসনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। দলের অর্ধেক ব্যাটার আউট হয়ে যাওয়ায় এবং ইমাম-উল-হক ব্যাট করার মতো ফিট না থাকায় ম্যাচের ভাগ্য মূলত তখনই নির্ধারিত হয়ে যায়। আলী ওসমান ৪৪টি বল লড়াই করে টিকে থাকলেও আর্চারের একটি বল উইকেটে টেনে এনে বোল্ড হন।

অন্য প্রান্তে থাকা শাকিল তখন সেঞ্চুরির দিকে এগোতে টাংয়ের এক ওভারেই দুটি ছক্কা হাঁকান। কিন্তু আফসোস এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই তার পতন ডেকে আনে। শতক থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতে তিনি সীমানার কাছে ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। এরপর টাং দ্রুত টেল এন্ডারদের গুটিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের করুণ লড়াইয়ের ইতি টানেন।