ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরেও শহীদ জিয়ার ১৯ দফাই বিএনপির পথ নির্দেশক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মঙ্গলবার তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলের প্রবীণ নেতারা ১৯৭৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচির কথা স্মরণ করছেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও প্রাসঙ্গিকতার কারণে ১৯ দফা এখনো বিএনপির পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক নথিপত্রে দেখা যায়, আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্য ছিল ১৯ দফার মূল লক্ষ্য। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এগুলো বিএনপির আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক নীতি-কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক নথি অনুযায়ী, ১৯ দফার প্রথম দফায় যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্বরক্ষার কথা বলা হয়। দ্বিতীয় দফায় জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে চারটি সাংবিধানিক মূলনীতি সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র উল্লেখ করা হয়। এখানে সমাজতন্ত্র বলতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারকে বোঝানো হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় প্রশাসনের সব স্তর এবং উন্নয়ন কর্মসূচিতে আত্মনির্ভরতাজনগণের অংশগ্রহণনিশ্চিত করার কথা বলা হয়। ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদারের ওপরও ১৯ দফায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নএবং বন্যা ও খরার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিম্নভূমির বদ্বীপাঞ্চলে যথাযথ পানি ব্যবস্থাপনারপ্রয়োজনীয়তাও ১৯ দফায় জোরালোভাবে স্বীকৃত হয়। এরপর শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং এ খাতে উৎপাদন সর্বাধিক করার লক্ষ্যে শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী দফায় সব নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তার মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদাপূরণের কথা বলা হয়। পাশাপাশি দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়। ১৯ দফায় গ্রামীণ উন্নয়নএকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থান পায়। নগর ও গ্রামের মধ্যকার বৈষম্য দূর করে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজননস্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণনীতির আওতায় দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী দফাগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রমিকের অধিকার, সিভিল সার্ভিস সংস্কার, ভূমি সংস্কার, বেসরকারি খাতে প্রণোদনা এবং যুবসমাজের ক্ষমতায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নারীর অধিকারসমুন্নত রাখার পাশাপাশি উন্নয়নের মূলধারায় নারীদের সম্পৃক্ততা এবং তাদের মর্যাদা ও আর্থসামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও ১৯ দফায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথাও এতে বলা হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান তাঁর সরকারের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মূলনীতি এবং দিকনির্দেশক কর্মসূচি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯ দফা গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল ঐতিহাসিক ১৯ দফা ঘোষণা করার পর ৪৯ বছর পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরে এসে দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে একই ভিশন অনুসরণ করছে বলে দলটির নেতারা মনে করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরেও শহীদ জিয়ার ১৯ দফাই বিএনপির পথ নির্দেশক

আপডেটের সময় : ০৭:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মঙ্গলবার তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলের প্রবীণ নেতারা ১৯৭৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচির কথা স্মরণ করছেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও প্রাসঙ্গিকতার কারণে ১৯ দফা এখনো বিএনপির পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক নথিপত্রে দেখা যায়, আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্য ছিল ১৯ দফার মূল লক্ষ্য। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এগুলো বিএনপির আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক নীতি-কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক নথি অনুযায়ী, ১৯ দফার প্রথম দফায় যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্বরক্ষার কথা বলা হয়। দ্বিতীয় দফায় জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে চারটি সাংবিধানিক মূলনীতি সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র উল্লেখ করা হয়। এখানে সমাজতন্ত্র বলতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারকে বোঝানো হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় প্রশাসনের সব স্তর এবং উন্নয়ন কর্মসূচিতে আত্মনির্ভরতাজনগণের অংশগ্রহণনিশ্চিত করার কথা বলা হয়। ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদারের ওপরও ১৯ দফায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নএবং বন্যা ও খরার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিম্নভূমির বদ্বীপাঞ্চলে যথাযথ পানি ব্যবস্থাপনারপ্রয়োজনীয়তাও ১৯ দফায় জোরালোভাবে স্বীকৃত হয়। এরপর শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং এ খাতে উৎপাদন সর্বাধিক করার লক্ষ্যে শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী দফায় সব নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তার মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদাপূরণের কথা বলা হয়। পাশাপাশি দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়। ১৯ দফায় গ্রামীণ উন্নয়নএকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থান পায়। নগর ও গ্রামের মধ্যকার বৈষম্য দূর করে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজননস্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণনীতির আওতায় দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী দফাগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রমিকের অধিকার, সিভিল সার্ভিস সংস্কার, ভূমি সংস্কার, বেসরকারি খাতে প্রণোদনা এবং যুবসমাজের ক্ষমতায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নারীর অধিকারসমুন্নত রাখার পাশাপাশি উন্নয়নের মূলধারায় নারীদের সম্পৃক্ততা এবং তাদের মর্যাদা ও আর্থসামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও ১৯ দফায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথাও এতে বলা হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান তাঁর সরকারের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মূলনীতি এবং দিকনির্দেশক কর্মসূচি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯ দফা গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল ঐতিহাসিক ১৯ দফা ঘোষণা করার পর ৪৯ বছর পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরে এসে দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে একই ভিশন অনুসরণ করছে বলে দলটির নেতারা মনে করছেন।