ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বার সভাপতির বাদানুবাদ, এজলাস ত্যাগ পাঁচ বিচারকের

  • মধুমতি ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : ০৫:১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২ সময়-দৃশ্য

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারকাজ চলাকালে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম চলার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন এবং আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে তাঁর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

বার সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আপিল বিভাগে মামলার শুনানির গতি কমে গেছে। তাঁর দাবি, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতির সমন্বয়ে তিনটি বেঞ্চ সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে একটি বেঞ্চ কার্যকর রয়েছে। এতে মামলার শুনানি ব্যাহত হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষার সময় বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিচারিক কার্যক্রমের ধীরগতির প্রভাব আইনজীবীদের পেশাগত কাজেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন বার সভাপতি। বিশেষ করে সাধারণ ও জুনিয়র আইনজীবীরা নিয়মিত মামলা শুনানির সুযোগ না পাওয়ায় তাঁদের পেশাগত কাজ ও আয় কমে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও অভিযোগ করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাঁর ভাষ্য, চেম্বার আদালত কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ বা ইনজাংশন দেওয়ার পর সেটি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে এসব আদেশ বহাল থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমস্যায় পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি তথ্য গোপনের অভিযোগে একজন জুনিয়র আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বার সভাপতি। তাঁর মতে, ওই আইনজীবীর ওপর আরোপ করা জরিমানা অত্যধিক কঠোর হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে ওই আইনজীবীকে ক্ষমা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলেও জানান। তবে আদালত সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি বলে তাঁর দাবি।

এ ছাড়া আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় জরুরি কোনো মামলা বা বিষয়ে বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আইনজীবীদের ‘মেনশন’ করার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কোর্টসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগে বিচারকাজ চলার সময় এসব বিষয় নিয়ে বার সভাপতি সরাসরি কথা বলতে শুরু করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান বিচারপতি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন অপর চার বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় চলে যান বলে সূত্রটি জানায়।

সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আদালতে এমন পরিস্থিতির ঘটনায় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম, বেঞ্চের সংখ্যা, ‘মেনশন’ করার সুযোগ এবং জুনিয়র আইনজীবীকে জরিমানাসহ বার সভাপতির উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি কিংবা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বার সভাপতির বাদানুবাদ, এজলাস ত্যাগ পাঁচ বিচারকের

আপডেটের সময় : ০৫:১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারকাজ চলাকালে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম চলার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন এবং আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে তাঁর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

বার সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আপিল বিভাগে মামলার শুনানির গতি কমে গেছে। তাঁর দাবি, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতির সমন্বয়ে তিনটি বেঞ্চ সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে একটি বেঞ্চ কার্যকর রয়েছে। এতে মামলার শুনানি ব্যাহত হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষার সময় বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিচারিক কার্যক্রমের ধীরগতির প্রভাব আইনজীবীদের পেশাগত কাজেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন বার সভাপতি। বিশেষ করে সাধারণ ও জুনিয়র আইনজীবীরা নিয়মিত মামলা শুনানির সুযোগ না পাওয়ায় তাঁদের পেশাগত কাজ ও আয় কমে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও অভিযোগ করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাঁর ভাষ্য, চেম্বার আদালত কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ বা ইনজাংশন দেওয়ার পর সেটি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে এসব আদেশ বহাল থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমস্যায় পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি তথ্য গোপনের অভিযোগে একজন জুনিয়র আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বার সভাপতি। তাঁর মতে, ওই আইনজীবীর ওপর আরোপ করা জরিমানা অত্যধিক কঠোর হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে ওই আইনজীবীকে ক্ষমা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলেও জানান। তবে আদালত সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি বলে তাঁর দাবি।

এ ছাড়া আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় জরুরি কোনো মামলা বা বিষয়ে বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আইনজীবীদের ‘মেনশন’ করার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কোর্টসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগে বিচারকাজ চলার সময় এসব বিষয় নিয়ে বার সভাপতি সরাসরি কথা বলতে শুরু করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান বিচারপতি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন অপর চার বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় চলে যান বলে সূত্রটি জানায়।

সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আদালতে এমন পরিস্থিতির ঘটনায় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম, বেঞ্চের সংখ্যা, ‘মেনশন’ করার সুযোগ এবং জুনিয়র আইনজীবীকে জরিমানাসহ বার সভাপতির উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি কিংবা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।