ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

ফরিদপুরে ন্যায্য দাম না থাকায় মাচাতেই পচছে পেঁয়াজ, বিপাকে হাজারো কৃষক

পেঁয়াজ ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ‘পেঁয়াজের রাজধানী’ খ্যাত ফরিদপুরের সালথার কৃষকরা। এবার বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। মাঠজুড়ে ফসল আর মাচাভর্তি পেঁয়াজ থাকলেও বাজারদর উৎপাদন খরচের চেয়ে অর্ধেকেরও কম। ফলে লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। আবার দাম বাড়ার আশায় যারা ঘরে পেঁয়াজ জমিয়ে রাখছেন, পচন ধরে তাদের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে। কোথাও কোথাও লোকসান সইতে না পেরে কৃষক পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দিচ্ছেন। অনেকের মাচায় রাখা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পেঁয়াজ ইতোমধ্যে পচে গেছে; নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে পুরো মাচার ফসল। বাম্পার ফলনের আনন্দ তাই মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে তীব্র হতাশা ও দুশ্চিন্তায়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার কৃষক রয়েছেন। মোট আবাদি জমি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর, যার ৯০০ থেকে ৯৫ শতাংশ জমিতেই ৩০ হাজারের বেশি কৃষক পেঁয়াজ চাষ করেন। চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ হেক্টরে মুড়িকাটা এবং ৫০ হেক্টরে বীজ পেঁয়াজের চাষ হয়েছে।

আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও বাজারে এসে বিপদে পড়েছেন কৃষকরা। সম্প্রতি সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর ও বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে কিছু পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি হলেও তা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। কৃষক রকিবুল ইসলাম জানান, মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে তারা মাচায় তুলে রাখেন, যেন পরে দাম বাড়লে লোকসান পোষানো যায়। কিন্তু এবার দীর্ঘ দিন মাচায় রাখার ফলে পেঁয়াজে পচন ধরছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে। আক্ষেপ প্রকাশ করে কৃষক ফারহান মোল্ল্যা বলেন, মাঠে পেঁয়াজ ফলিয়ে মনে হয়েছিল এবার ভালো দাম পাব। কিন্তু বাজারে এসে দেখি উৎপাদন খরচই উঠছে না। মাচায় রাখলে পচে যাচ্ছে, আর বিক্রি করতে গেলে দাম নেই। আমরা এখন কোথায় যাব?

সালথা সদর বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. মাসুম সরদার জানান, বাজারে সরবরাহ বেশি কিন্তু মোকামে চাহিদা কম থাকায় দাম কমে গেছে। আজ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। তবে ছোট আকারের পেঁয়াজের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। আগামী মাসের শুরুতে বাজার কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি। কৃষকদের দাবি, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতি বছরই তাদের বড় ধরনের ক্ষতি সইতে হয়। তাই মাঠপর্যায়ে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, কৃষি প্রণোদনা বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং দেশীয় কৃষকের স্বার্থে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে সতর্ক থাকার দাবি জানান তারা।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, চলতি বছর কৃষি প্রণোদনার আওতায় ৮০০ কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজের বর্তমান দাম নিয়ে কৃষকদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। পাশাপাশি সংরক্ষণাগার নির্মাণ ও প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

ফরিদপুরে ন্যায্য দাম না থাকায় মাচাতেই পচছে পেঁয়াজ, বিপাকে হাজারো কৃষক

আপডেটের সময় : ০৮:০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

পেঁয়াজ ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ‘পেঁয়াজের রাজধানী’ খ্যাত ফরিদপুরের সালথার কৃষকরা। এবার বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। মাঠজুড়ে ফসল আর মাচাভর্তি পেঁয়াজ থাকলেও বাজারদর উৎপাদন খরচের চেয়ে অর্ধেকেরও কম। ফলে লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। আবার দাম বাড়ার আশায় যারা ঘরে পেঁয়াজ জমিয়ে রাখছেন, পচন ধরে তাদের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে। কোথাও কোথাও লোকসান সইতে না পেরে কৃষক পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দিচ্ছেন। অনেকের মাচায় রাখা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পেঁয়াজ ইতোমধ্যে পচে গেছে; নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে পুরো মাচার ফসল। বাম্পার ফলনের আনন্দ তাই মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে তীব্র হতাশা ও দুশ্চিন্তায়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার কৃষক রয়েছেন। মোট আবাদি জমি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর, যার ৯০০ থেকে ৯৫ শতাংশ জমিতেই ৩০ হাজারের বেশি কৃষক পেঁয়াজ চাষ করেন। চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ হেক্টরে মুড়িকাটা এবং ৫০ হেক্টরে বীজ পেঁয়াজের চাষ হয়েছে।

আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও বাজারে এসে বিপদে পড়েছেন কৃষকরা। সম্প্রতি সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর ও বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে কিছু পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি হলেও তা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। কৃষক রকিবুল ইসলাম জানান, মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে তারা মাচায় তুলে রাখেন, যেন পরে দাম বাড়লে লোকসান পোষানো যায়। কিন্তু এবার দীর্ঘ দিন মাচায় রাখার ফলে পেঁয়াজে পচন ধরছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে। আক্ষেপ প্রকাশ করে কৃষক ফারহান মোল্ল্যা বলেন, মাঠে পেঁয়াজ ফলিয়ে মনে হয়েছিল এবার ভালো দাম পাব। কিন্তু বাজারে এসে দেখি উৎপাদন খরচই উঠছে না। মাচায় রাখলে পচে যাচ্ছে, আর বিক্রি করতে গেলে দাম নেই। আমরা এখন কোথায় যাব?

সালথা সদর বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. মাসুম সরদার জানান, বাজারে সরবরাহ বেশি কিন্তু মোকামে চাহিদা কম থাকায় দাম কমে গেছে। আজ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। তবে ছোট আকারের পেঁয়াজের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। আগামী মাসের শুরুতে বাজার কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি। কৃষকদের দাবি, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতি বছরই তাদের বড় ধরনের ক্ষতি সইতে হয়। তাই মাঠপর্যায়ে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, কৃষি প্রণোদনা বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং দেশীয় কৃষকের স্বার্থে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে সতর্ক থাকার দাবি জানান তারা।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, চলতি বছর কৃষি প্রণোদনার আওতায় ৮০০ কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজের বর্তমান দাম নিয়ে কৃষকদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। পাশাপাশি সংরক্ষণাগার নির্মাণ ও প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।