ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

ফরিদা বেগমের জানাজায় মানুষের ঢল, মায়ের স্মৃতিতে কাঁদলেন মুকুল

  • মধুমতি ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : ০৬:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ সময়-দৃশ্য

মায়ের কথা বলতে গিয়ে লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল বলেন, ‘যেখানেই থাকতাম, প্রতিদিন মায়ের কাছে হাজিরা দিতাম।’ মায়ের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর।মায়ের স্নেহের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মা তাঁকে সব সময় আদর করতেন, ভালোবাসতেন। কাছে পেলে স্নেহভরে চুমু দিতেন। সেই মমতাময়ী মানুষটি আজ আর তাঁদের মধ্যে নেই—এই বাস্তবতা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।জানাজার আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল। তিনি বলেন, তাঁর মায়ের কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে যেন তাঁকে ক্ষমা করে দেন।মায়ের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই।’ তাঁর কথায় ফুটে ওঠে মাকে হারানোর গভীর শোক এবং শূন্যতার অনুভূতি।

মায়ের জীবনের কথা স্মরণ করে লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল জানান, তাঁর মা হজ ও ওমরাহ পালন করেছেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁর জীবনের সব ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন—এ জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি। মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোকের মধ্যে থাকা লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল মায়ের রেখে যাওয়া সব পাওনা ও দায়দায়িত্বের বিষয়েও দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। চার ভাইকে একসঙ্গে রেখে মায়ের যে ভূমিকা, সেই অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। মায়ের প্রতি সন্তানের এমন গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্মৃতিচারণে জানাজায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সবার কাছে ফরিদা বেগমের রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া কামনা করেন পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মরহুমার দৌহিত্র, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তরের প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল, মরহুমার ছেলে ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর খাঁন রতন, মরহুমার দৌহিত্র ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুলসহ পরিবারের সদস্যরা।

ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে রূপায়ণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপ ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান। জানাজা এবং দাফনেও শরিক হন অনেকেই। এ সময় মরহুমার বড় ছেলে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তারা। একইসঙ্গে ফরিদা বেগমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। তা ছাড়া ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শোক প্রকাশ করেছে।

ফরিদা বেগমের জানাজায় শরিক হয়ে সমবেদনা জানান দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, স্থপতি রফিক আজম, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অভিনেতা নাদের চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। জানাজায় রূপায়ণ গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

ফরিদা বেগমের জানাজায় মানুষের ঢল, মায়ের স্মৃতিতে কাঁদলেন মুকুল

আপডেটের সময় : ০৬:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের কথা বলতে গিয়ে লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল বলেন, ‘যেখানেই থাকতাম, প্রতিদিন মায়ের কাছে হাজিরা দিতাম।’ মায়ের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর।মায়ের স্নেহের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মা তাঁকে সব সময় আদর করতেন, ভালোবাসতেন। কাছে পেলে স্নেহভরে চুমু দিতেন। সেই মমতাময়ী মানুষটি আজ আর তাঁদের মধ্যে নেই—এই বাস্তবতা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।জানাজার আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল। তিনি বলেন, তাঁর মায়ের কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে যেন তাঁকে ক্ষমা করে দেন।মায়ের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই।’ তাঁর কথায় ফুটে ওঠে মাকে হারানোর গভীর শোক এবং শূন্যতার অনুভূতি।

মায়ের জীবনের কথা স্মরণ করে লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল জানান, তাঁর মা হজ ও ওমরাহ পালন করেছেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁর জীবনের সব ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন—এ জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি। মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোকের মধ্যে থাকা লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল মায়ের রেখে যাওয়া সব পাওনা ও দায়দায়িত্বের বিষয়েও দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। চার ভাইকে একসঙ্গে রেখে মায়ের যে ভূমিকা, সেই অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। মায়ের প্রতি সন্তানের এমন গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্মৃতিচারণে জানাজায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সবার কাছে ফরিদা বেগমের রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া কামনা করেন পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মরহুমার দৌহিত্র, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তরের প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল, মরহুমার ছেলে ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর খাঁন রতন, মরহুমার দৌহিত্র ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুলসহ পরিবারের সদস্যরা।

ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে রূপায়ণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপ ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান। জানাজা এবং দাফনেও শরিক হন অনেকেই। এ সময় মরহুমার বড় ছেলে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তারা। একইসঙ্গে ফরিদা বেগমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। তা ছাড়া ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শোক প্রকাশ করেছে।

ফরিদা বেগমের জানাজায় শরিক হয়ে সমবেদনা জানান দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, স্থপতি রফিক আজম, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অভিনেতা নাদের চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। জানাজায় রূপায়ণ গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।