বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দের খোলা গ্রামে একই পরিবারের তিনজনকে নৃসংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত দুই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরকীয়ার বিষয়টি স্বজনদের কাছে জানাজানি হয়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ৪ আগস্ট চান্দের খোলা গ্রামের একই ঘর থেকে মা, ছেলে ও নানির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—মা, তার সন্তান আহাদ এবং বৃদ্ধা নানি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করে।আজ রবিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার হাসান মোঃ নাসের রিকাবদার।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় সোর্সের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আসাদুলসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আসাদুলের সাথে ভিকটিম পরিবারের এক নারী সদস্যের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সম্প্রতি এই অনৈতিক সম্পর্কের কথা পরিবারের সদস্যরা জেনে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে আসাদুল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসাদুল তার সহযোগী আসামিদের নিয়ে মূল টার্গেট আহাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে মধ্যরাতে তাদের ঘরে প্রবেশ করে। তবে ঘরে থাকা আহাদের মা এবং নানি জেগে ওঠায় এবং আসামিদের চিনে ফেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং পরিচয় গোপন রাখতে ঘাতকরা একে একে তিনজনকেই নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে আরও কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।#
মধুমতি ডেস্ক : 


















