ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

বালিয়াকান্দিতে স্বামীর যৌতুক মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্বামীর করা যৌতুক মামলায় এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক আরিফ হোসেন।ওই নার্সের নাম মোছা. তানিয়া খাতুন (২২)। তিনি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে কর্মরত। তার স্বামী মো. সাখাওয়াত হোসেন সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা।এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা।

এজাহারের বরাতে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে সাখাওয়াতের সঙ্গে বিয়ে হয় তানিয়ার। বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়। তবে বিয়ের পর তানিয়া তার স্বামীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবি করা টাকা না দিলে সংসার করবেন না বলেও জানানো হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পারিবারিকভাবে ও স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে তানিয়া যৌতুকের টাকা ছাড়া সংসারে ফিরতে রাজি হননি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এ ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলাটি সি.আর মামলা নাম্বার ৪০/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।

সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। স্থানীয় ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, আদালতের তদন্তের পর তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন নেন।

এরপর বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসা কার্যকর না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী। মামলার অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আসামিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

বালিয়াকান্দিতে স্বামীর যৌতুক মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে

আপডেটের সময় : ০৯:০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্বামীর করা যৌতুক মামলায় এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক আরিফ হোসেন।ওই নার্সের নাম মোছা. তানিয়া খাতুন (২২)। তিনি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে কর্মরত। তার স্বামী মো. সাখাওয়াত হোসেন সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা।এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা।

এজাহারের বরাতে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে সাখাওয়াতের সঙ্গে বিয়ে হয় তানিয়ার। বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়। তবে বিয়ের পর তানিয়া তার স্বামীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবি করা টাকা না দিলে সংসার করবেন না বলেও জানানো হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পারিবারিকভাবে ও স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে তানিয়া যৌতুকের টাকা ছাড়া সংসারে ফিরতে রাজি হননি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এ ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলাটি সি.আর মামলা নাম্বার ৪০/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।

সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। স্থানীয় ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, আদালতের তদন্তের পর তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন নেন।

এরপর বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসা কার্যকর না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী। মামলার অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আসামিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।