ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
সংসদ ও দুদককে দেয়া হাইকোর্টের ১৬ পরামর্শ চার বছরেও বাস্তায়ন হয়নি রাজনৈতিক চাপের কাছে অসহায় ইসি: গোলাম পরওয়ার জাপান সফর: জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান দেশে পলাতক অপরাধীকে অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রত্যাশা টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির বঙ্গপোসাগরে সাম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা,  ঘুর্নিঝড় “অর্নব” বুধবার ভারতে আঘাত হানতে পারে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬: রফিক-আশরাফুলের উপস্থিতিতে জমকালো উদ্বোধন পুলিশকে শক্তিশালী না করলে নিরাপদে চলাফেরাসম্ভব নয় —-আইজিপি জিয়াউর রহমানের সূচনা, খালেদা জিয়ার অগ্রযাত্রা—সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে তারেক রহমান
চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে গেছেন প্রধানমন্ত্রী :

বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রত্যাশা

  • মধুমতি ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : ০৭:০৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর হবে, জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে, বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত হবে।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণও আলোচ্যসূচিতে থাকবে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানি ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হতে পারে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি)-এর গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানেরও। সফরসূচিতে চিবা প্রিফেকচারের ফুত্তসু সিটিতে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি নাগোয়ায় ইউনিক্লোর সদর দপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি এই সফরে স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়েও পৃথক চুক্তির বিষয়ে কাজ চলছে। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহায়তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গত এপ্রিলে তারেক রহমান একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এবারের সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই বৈঠকে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল। সফরের আগে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ১২টি অগ্রাধিকার খাতে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগের কিছু উদ্যোগ বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিআইজি-বি) কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।

১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের বিভিন্ন বড় অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানের সহায়তা রয়েছে। উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটি সফর করেছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

সংসদ ও দুদককে দেয়া হাইকোর্টের ১৬ পরামর্শ চার বছরেও বাস্তায়ন হয়নি

চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে গেছেন প্রধানমন্ত্রী :

বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রত্যাশা

আপডেটের সময় : ০৭:০৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর হবে, জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে, বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত হবে।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণও আলোচ্যসূচিতে থাকবে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানি ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হতে পারে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি)-এর গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানেরও। সফরসূচিতে চিবা প্রিফেকচারের ফুত্তসু সিটিতে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি নাগোয়ায় ইউনিক্লোর সদর দপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি এই সফরে স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়েও পৃথক চুক্তির বিষয়ে কাজ চলছে। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহায়তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গত এপ্রিলে তারেক রহমান একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এবারের সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই বৈঠকে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল। সফরের আগে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ১২টি অগ্রাধিকার খাতে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগের কিছু উদ্যোগ বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিআইজি-বি) কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।

১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের বিভিন্ন বড় অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানের সহায়তা রয়েছে। উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটি সফর করেছিলেন।