ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেউ পদদলিত হয়ে মারা যায়নি: বিভাগীয় কমিশনার

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় কেউ পদদলিত হয়ে মারা যায়নি বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবীর। তবে এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা সত্য নয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, এর মধ্যে একজন বর্তমানে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, স্বাভাবিক মৃত্যুর পর তাদের হাসপাতালে আনা হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বাকি দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। চিকিৎসকরাও তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে বিভিন্ন খবরে পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর যে তথ্য এসেছে, তা অসত্য।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘যারা মারা গেছেন, তাদের ঠিকানায় খোঁজ নিন। তাদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন আছে কি না, তা দেখুন।হাসপাতালে পদদলিত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। এতে কারও হাত-পা সামান্য কেটে যেতে পারে বা মাথায় আঘাত লাগতে পারে। কিন্তু পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো কারণ নেই।তিনি বলেন, ‘যে পাঁচজন মারা গেছেন বলে বলা হচ্ছে, তাদের মৃত্যুর কারণ চিকিৎসকরাই তাদের রিপোর্টে বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে আমরা ফায়ার সার্ভিস, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্টাফসহ সবার সঙ্গে কথা বলেছি।’ ‘সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করেছি। হাসপাতালের রেজিস্টারও যাচাই-বাছাই করেছি। এতে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘তদন্তে যদি দেখা যায়, এ ঘটনায় কোনো অনিয়ম বা কারও দায় রয়েছে, তাহলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ডিআইজি জাহিদুল হাসান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার কামরুল হাসান এবং হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় মো. রমজান আলী ও কুলছুমা বেগম নামে দুজন স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পূর্ণ ঠিকানা জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি লিফট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন হাসপাতালের বিভিন্ন তলার কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর আগুনের সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে পর্যায়ক্রমে ছয়জন মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাটি নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেউ পদদলিত হয়ে মারা যায়নি: বিভাগীয় কমিশনার

আপডেটের সময় : ০৭:২২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় কেউ পদদলিত হয়ে মারা যায়নি বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবীর। তবে এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা সত্য নয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, এর মধ্যে একজন বর্তমানে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, স্বাভাবিক মৃত্যুর পর তাদের হাসপাতালে আনা হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বাকি দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। চিকিৎসকরাও তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে বিভিন্ন খবরে পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর যে তথ্য এসেছে, তা অসত্য।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘যারা মারা গেছেন, তাদের ঠিকানায় খোঁজ নিন। তাদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন আছে কি না, তা দেখুন।হাসপাতালে পদদলিত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। এতে কারও হাত-পা সামান্য কেটে যেতে পারে বা মাথায় আঘাত লাগতে পারে। কিন্তু পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো কারণ নেই।তিনি বলেন, ‘যে পাঁচজন মারা গেছেন বলে বলা হচ্ছে, তাদের মৃত্যুর কারণ চিকিৎসকরাই তাদের রিপোর্টে বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে আমরা ফায়ার সার্ভিস, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্টাফসহ সবার সঙ্গে কথা বলেছি।’ ‘সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করেছি। হাসপাতালের রেজিস্টারও যাচাই-বাছাই করেছি। এতে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘তদন্তে যদি দেখা যায়, এ ঘটনায় কোনো অনিয়ম বা কারও দায় রয়েছে, তাহলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ডিআইজি জাহিদুল হাসান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার কামরুল হাসান এবং হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় মো. রমজান আলী ও কুলছুমা বেগম নামে দুজন স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পূর্ণ ঠিকানা জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি লিফট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন হাসপাতালের বিভিন্ন তলার কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর আগুনের সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে পর্যায়ক্রমে ছয়জন মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাটি নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।