ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা একটি চালান থেকে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি শনাক্ত ও জব্দ করেছে এনবিআর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্রে গাড়ির দরজা, ইঞ্জিন, বাম্পার, স্টিয়ারিং ও হেডলাইটের মতো ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ দেখানো হলেও কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, এসব পণ্য মূলত চারটি গাড়ির খণ্ডিত অংশ। কাস্টমসের প্রাথমিক হিসাবে, গাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাপানের ‘মাহি কার পোর্ট’ থেকে চালানটি বাংলাদেশে আসে। সি-৬৯০৪ নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ঢাকার গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত ‘ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস’ আমদানিকারক এবং খুলনার ‘এসটি ইন্টারন্যাশনাল’ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চালানটিতে ১৪টি ক্যাটালগের ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। আমদানি নথিতে এসব প্যাকেজে ব্যবহৃত গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ রয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। ইনভয়েসে চালানটির মূল্য দেখানো হয় ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। এ ঘোষণার ভিত্তিতে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ধরা হয় প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে কাস্টমসের পরীক্ষায় ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চালানটিতে থাকা চারটি গাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জব্দ করা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স-৫৭০। গাড়িটির আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২০১০ মডেলের বিএমডব্লিউ ৬৫০আইয়ের আনুমানিক মূল্য ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেটের মূল্য ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
কাস্টমসের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটির খালাস আটকে দেওয়া হয়। খুলনা কাস্টমস গোয়েন্দা ও মোংলা সার্কেলের সহায়তায় গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়।
পরীক্ষায় দেখা যায়, গাড়িগুলোর সামনের ও পেছনের অংশ এবং ছাদ তিন থেকে চারটি অংশে কেটে আলাদা করে আনা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রিক ওয়্যারিং ও প্রয়োজনীয় সেন্সর অক্ষত রাখা হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব খণ্ডিত অংশ পুনরায় জোড়া লাগানো হলে গাড়িগুলো পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
মোংলা কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার এইচ এম শরিফুল হাসান জানান, কাস্টমস আইনের জিআরআই বিধি অনুযায়ী কোনো পণ্য খণ্ডিত অবস্থায় আমদানি করা হলেও যদি তাতে মূল পণ্যের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বহাল থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ পণ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খণ্ডিত গাড়িগুলোর প্রকৃত শ্রেণিবিন্যাস ও শুল্কায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়িগুলোর ইঞ্জিন ক্ষমতা, উৎপাদন সাল, বয়স, অবচয়সহ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে প্রকৃত শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এবিষয়ে আমদানীকারন প্রতিষ্ঠানের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।#
মোংরা প্রতিনিধি : 


















