ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

রাজশাহী মহানগরীতে জুয়েলারি দোকানের দেয়াল ভেঙ্গে দুর্ধর্ষ চুরি,  ৮জন গ্রেপ্তার, স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা উদ্ধার

  • রাজশাহী ব্যুরো :
  • আপডেটের সময় : ০৭:০৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ সময়-দৃশ্য

রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার সাহেববাজারের স্বর্ণপট্টির “কারূশ্রী জুয়েলার্স” নামের একটি জুয়েলারি দোকানে গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখ একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় জড়িত ৭ জন চোর এবং চুরি করা মালামাল ক্রয়কারী ১ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে আরএমপির ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১ জনকে খুলনা থেকে এবং অপর ৭ জনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখ ভোর বেলায় অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন চোর রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার এলাকার কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে আসে। তারা ঐ স্বর্ণের দোকানের সামনে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রয়ের দোকান বসিয়ে কৌশলে জটলা পাকিয়ে পাশের স্বর্নের দোকানের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর কারূশ্রী জুয়েলার্স এর পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে সিন্দুক থেকে বাদীর বর্ননামতে আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, ৩ বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ কমিশনার  মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডিবিতে হস্তান্তর করেন। পুলিশ কমিশনারের তত্বাবধানে আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট এবং সিসি ক্যামেরা ইউনিট একযোগে কাজ করে চোরদের সনাক্ত করতে সক্ষম হোন। চোরের এই টিমটি অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির এবং তারা এক মোবাইল একবারের বেশি ব্যবহার করে না এবং তাদের ব্যবহৃত সিমের সবগুলোই অন্যের নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত যারা অর্থাৎ এমন ব্যক্তিদের নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত যারা এদের চিনে না এবং তাদের নামে যে সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে এটিও জানে না। তারা খুব দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং কেউ এলাকায় থাকে না । তারা বছরে ১ থেকে ২টি বড় ধরনের চুরি করে। একটি চুরির পূর্বে ৩/৪ মাস সেটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ঐ স্থানে গিয়ে অপরাধ সংঘটন এবং নিরাপদ প্রস্থানের কৌশল নির্ধারণ করে। এ ঘটনারও চার মাস পূর্বে তারা এখানে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার নামে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে যায়।

এদের গ্রেফতারে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে আরএমপির কয়েকটি চৌকস টিম একসাথে কাজ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে গত পরশু দিবাগত রাতে বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের মো. ফজলুল হকের ছেলে মো. রুস্তম আলী শেখ (৬৪)-কে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও পুলিশের আরেকটি টিম ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আ. হাকিমের ছেলে স্বপন (৬২), একই গ্রামের মানিক ফকিরের ছেলে উজ্জল (৩৭), একই থানার মাধবপুরা গ্রামের মতি ফকিরের ছেলে রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাট জেলার শরনখোলা থানার খোন্তাকাটা (জিমতলা) গ্রামের মোসাকের ছেলে বর্তমানে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানা এলাকায় বসবাসরত আবু তালেব (৪৫), বাগেরহাট জেলার শরনখোলা থানার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের শেখ ফজলু শেখের ছেলে মো. কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আ. হাকিমের ছেলে ইউনুস (৪৫)-কে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের নিকট প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সরকার বাড়ী বজনীখোলা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে রবিউল হাসান (৪৫)-কে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত রবিউল হাসানের হেফাজত থেকে চোরাইকৃত ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ন বিক্রয়ের নগদ ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামি স্বর্ন ব্যবসায়ী রবিউল অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে আজ বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

রাজশাহী মহানগরীতে জুয়েলারি দোকানের দেয়াল ভেঙ্গে দুর্ধর্ষ চুরি,  ৮জন গ্রেপ্তার, স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা উদ্ধার

আপডেটের সময় : ০৭:০৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার সাহেববাজারের স্বর্ণপট্টির “কারূশ্রী জুয়েলার্স” নামের একটি জুয়েলারি দোকানে গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখ একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় জড়িত ৭ জন চোর এবং চুরি করা মালামাল ক্রয়কারী ১ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে আরএমপির ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১ জনকে খুলনা থেকে এবং অপর ৭ জনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখ ভোর বেলায় অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন চোর রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার এলাকার কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে আসে। তারা ঐ স্বর্ণের দোকানের সামনে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রয়ের দোকান বসিয়ে কৌশলে জটলা পাকিয়ে পাশের স্বর্নের দোকানের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর কারূশ্রী জুয়েলার্স এর পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে সিন্দুক থেকে বাদীর বর্ননামতে আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, ৩ বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ কমিশনার  মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডিবিতে হস্তান্তর করেন। পুলিশ কমিশনারের তত্বাবধানে আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট এবং সিসি ক্যামেরা ইউনিট একযোগে কাজ করে চোরদের সনাক্ত করতে সক্ষম হোন। চোরের এই টিমটি অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির এবং তারা এক মোবাইল একবারের বেশি ব্যবহার করে না এবং তাদের ব্যবহৃত সিমের সবগুলোই অন্যের নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত যারা অর্থাৎ এমন ব্যক্তিদের নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত যারা এদের চিনে না এবং তাদের নামে যে সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে এটিও জানে না। তারা খুব দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং কেউ এলাকায় থাকে না । তারা বছরে ১ থেকে ২টি বড় ধরনের চুরি করে। একটি চুরির পূর্বে ৩/৪ মাস সেটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ঐ স্থানে গিয়ে অপরাধ সংঘটন এবং নিরাপদ প্রস্থানের কৌশল নির্ধারণ করে। এ ঘটনারও চার মাস পূর্বে তারা এখানে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার নামে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে যায়।

এদের গ্রেফতারে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে আরএমপির কয়েকটি চৌকস টিম একসাথে কাজ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে গত পরশু দিবাগত রাতে বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের মো. ফজলুল হকের ছেলে মো. রুস্তম আলী শেখ (৬৪)-কে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও পুলিশের আরেকটি টিম ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আ. হাকিমের ছেলে স্বপন (৬২), একই গ্রামের মানিক ফকিরের ছেলে উজ্জল (৩৭), একই থানার মাধবপুরা গ্রামের মতি ফকিরের ছেলে রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাট জেলার শরনখোলা থানার খোন্তাকাটা (জিমতলা) গ্রামের মোসাকের ছেলে বর্তমানে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানা এলাকায় বসবাসরত আবু তালেব (৪৫), বাগেরহাট জেলার শরনখোলা থানার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের শেখ ফজলু শেখের ছেলে মো. কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আ. হাকিমের ছেলে ইউনুস (৪৫)-কে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের নিকট প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সরকার বাড়ী বজনীখোলা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে রবিউল হাসান (৪৫)-কে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত রবিউল হাসানের হেফাজত থেকে চোরাইকৃত ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ন বিক্রয়ের নগদ ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামি স্বর্ন ব্যবসায়ী রবিউল অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে আজ বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।