ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

রাজাপুর হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসা নিয়ে আনসার সদস্যের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের মারামারি

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে শিশুর চিকিৎসা নিয়ে কর্তব্যরত আনসার সদস্যের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) রাতে জরুরি বিভাগের ভেতরেই এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের উত্তমপুর এলাকার মো. হানিফ খানের ছেলে ও বরগুনায় আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত মো. রাহাত হোসেন খান (২৩) এবং তার বোনজামাই সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার মো. শামসুল হকের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম শামীম (৩৭)। হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, সাইদুল ইসলাম শামীম তার এক বছর বয়সী সন্তান তাসবিহতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন শিশুটির মা ও রাহাতসহ কয়েকজন স্বজন। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশা ইসলাম মীম শিশুটিকে দেখে স্বজনদের বাইরে সরে যেতে বলেন। এ সময় রাহাত বিষয়টি জানতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মো. সুমন তাকে সরে যেতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রাহাত আনসার সদস্যকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সাইদুল ইসলাম শামীমও এতে জড়িয়ে পড়েন। রাহাত হোসেনের দাবি, তার ভাগনির নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ায় তিনি চিকিৎসকের কাছে জানতে যেতে চাইলে আনসার সদস্য সুমন তাকে বাধা দিয়ে ধাক্কা দেন। তিনিও পাল্টা ধাক্কা দেন। পরে রোগী নিয়ে অন্যত্র যেতে চাইলে তাদের আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে আনসার সদস্য মো. সুমনের দাবি, শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় স্বজনরা চিকিৎসককে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকায় চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন ঘটছিল। এ কারণে রাহাতকে সরে যেতে বললে তিনি তাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন।

কর্তব্যরত চিকিৎসক আশা ইসলাম মীম বলেন, জরুরী বিভাগের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে তিনি সবাইকে শান্ত হতে বলেন। পরিস্থিতি শান্ত না হলে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি। কাউকে তিনি আটকে রাখেননি দাবি করে চিকিৎসক বলেন, আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তোলার ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের কিছু সময়ের জন্য আনসার সদস্যরা আটকে রেখেছিলেন। রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মেহেজাবীন ফারহানা নিসা বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

রাজাপুর হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসা নিয়ে আনসার সদস্যের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের মারামারি

আপডেটের সময় : ০৯:০২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে শিশুর চিকিৎসা নিয়ে কর্তব্যরত আনসার সদস্যের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) রাতে জরুরি বিভাগের ভেতরেই এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের উত্তমপুর এলাকার মো. হানিফ খানের ছেলে ও বরগুনায় আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত মো. রাহাত হোসেন খান (২৩) এবং তার বোনজামাই সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার মো. শামসুল হকের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম শামীম (৩৭)। হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, সাইদুল ইসলাম শামীম তার এক বছর বয়সী সন্তান তাসবিহতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন শিশুটির মা ও রাহাতসহ কয়েকজন স্বজন। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশা ইসলাম মীম শিশুটিকে দেখে স্বজনদের বাইরে সরে যেতে বলেন। এ সময় রাহাত বিষয়টি জানতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মো. সুমন তাকে সরে যেতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রাহাত আনসার সদস্যকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সাইদুল ইসলাম শামীমও এতে জড়িয়ে পড়েন। রাহাত হোসেনের দাবি, তার ভাগনির নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ায় তিনি চিকিৎসকের কাছে জানতে যেতে চাইলে আনসার সদস্য সুমন তাকে বাধা দিয়ে ধাক্কা দেন। তিনিও পাল্টা ধাক্কা দেন। পরে রোগী নিয়ে অন্যত্র যেতে চাইলে তাদের আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে আনসার সদস্য মো. সুমনের দাবি, শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় স্বজনরা চিকিৎসককে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকায় চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন ঘটছিল। এ কারণে রাহাতকে সরে যেতে বললে তিনি তাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন।

কর্তব্যরত চিকিৎসক আশা ইসলাম মীম বলেন, জরুরী বিভাগের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে তিনি সবাইকে শান্ত হতে বলেন। পরিস্থিতি শান্ত না হলে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি। কাউকে তিনি আটকে রাখেননি দাবি করে চিকিৎসক বলেন, আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তোলার ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের কিছু সময়ের জন্য আনসার সদস্যরা আটকে রেখেছিলেন। রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মেহেজাবীন ফারহানা নিসা বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’