ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

শিশুপুত্রকে বিক্রির টাকায় আইফোন কেনা বাবা আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত

দেড় বছরের  আইফোন কেনার অভিযোগে আটক হওয়া মো. মারুফ মুন্সিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে দশমিনা থানা-পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে শিশুটিকেও উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা ও শিশুটির দাদি মাহমুদা বেগমকে ছেলে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। পরে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মারুফ জানান, তিনি শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে লিখিতভাবে দিয়ে দিয়েছেন। মারুফের মা মাহমুদা বেগম অভিযোগ করেন, ছেলে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে নাতিকে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেন। পরে সেই টাকা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে একটি আইফোন কেনেন বলেও তিনি দাবি করেন।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ সন্তানকে অন্যের কাছে লিখে দিয়ে সেই অর্থে একটি আইফোন কেনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ফোনটির নির্দিষ্ট মডেল সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মারুফকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে, শিশুটিকে বিক্রি করে আইফোন কেনার অভিযোগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তকে আটক এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

শিশুপুত্রকে বিক্রির টাকায় আইফোন কেনা বাবা আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত

আপডেটের সময় : ০৮:৪৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেড় বছরের  আইফোন কেনার অভিযোগে আটক হওয়া মো. মারুফ মুন্সিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে দশমিনা থানা-পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে শিশুটিকেও উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা ও শিশুটির দাদি মাহমুদা বেগমকে ছেলে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। পরে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মারুফ জানান, তিনি শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে লিখিতভাবে দিয়ে দিয়েছেন। মারুফের মা মাহমুদা বেগম অভিযোগ করেন, ছেলে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে নাতিকে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেন। পরে সেই টাকা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে একটি আইফোন কেনেন বলেও তিনি দাবি করেন।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ সন্তানকে অন্যের কাছে লিখে দিয়ে সেই অর্থে একটি আইফোন কেনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ফোনটির নির্দিষ্ট মডেল সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মারুফকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে, শিশুটিকে বিক্রি করে আইফোন কেনার অভিযোগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তকে আটক এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে।