ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

হাইকোর্টে খারিজ গ্রামীণ কল্যাণের দুই রিট, দিতে হবে ৬৬৬ কোটি

  • ষ্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেটের সময় : ০৬:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ সময়-দৃশ্য

পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের জন্য ৬০০ কোটির বেশি টাকা কর দাবি নিয়ে করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের পৃথক দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারের রাজস্ব হিসেবে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে অতিরিক্ত কর দাবি করে কর বিভাগ। ওই দাবির বৈধতা নিয়ে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রায় দেন। ওই রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে বিলম্ব মার্জনা করে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পৃথকভাবে লিভ টু আপিল করে। পরে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ ওই আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন।

এরপর পুনঃশুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন। তবে একই বছরের ২৯ আগস্ট ওই রায় প্রত্যাহার করা হয়। আদালত জানান, ওই দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক অতীতে এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে তাঁর ওই মামলায় বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কারণে রায়টি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

পরে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠান। ওই বেঞ্চে পুনরায় শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রিট দুটি খারিজ করে দেওয়া হলো।

রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, পাঁচ করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর অনাদায়ি ছিল। কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করেছেন। ফলে সরকারের রাজস্ব হিসেবে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর কর বিভাগ ৩০ দিনের সময় দিয়ে দাবি আদায়ের জন্য ডিমান্ড নোটিশ জারি করবে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বিরুদ্ধে রিট দুটি করা হয়েছিল। আদালত রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আপিল করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

হাইকোর্টে খারিজ গ্রামীণ কল্যাণের দুই রিট, দিতে হবে ৬৬৬ কোটি

আপডেটের সময় : ০৬:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের জন্য ৬০০ কোটির বেশি টাকা কর দাবি নিয়ে করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের পৃথক দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারের রাজস্ব হিসেবে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে অতিরিক্ত কর দাবি করে কর বিভাগ। ওই দাবির বৈধতা নিয়ে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রায় দেন। ওই রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে বিলম্ব মার্জনা করে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পৃথকভাবে লিভ টু আপিল করে। পরে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ ওই আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন।

এরপর পুনঃশুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন। তবে একই বছরের ২৯ আগস্ট ওই রায় প্রত্যাহার করা হয়। আদালত জানান, ওই দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক অতীতে এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে তাঁর ওই মামলায় বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কারণে রায়টি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

পরে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠান। ওই বেঞ্চে পুনরায় শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রিট দুটি খারিজ করে দেওয়া হলো।

রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, পাঁচ করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর অনাদায়ি ছিল। কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করেছেন। ফলে সরকারের রাজস্ব হিসেবে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর কর বিভাগ ৩০ দিনের সময় দিয়ে দাবি আদায়ের জন্য ডিমান্ড নোটিশ জারি করবে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বিরুদ্ধে রিট দুটি করা হয়েছিল। আদালত রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আপিল করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।