ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ বিক্রির প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ

বাংলাদেশের কাছে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ বিক্রির প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্যোগ নিয়েছে। গত এপ্রিলে ৪৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর বাংলাদেশের কাছে বাকি ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ বিক্রির তোড়জোড় চলছে। শেষ পর্যন্ত ২৫টি বোয়িং কেনার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন ছাড়া ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি জানত না বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, চিঠির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আর কেউ জানতেন না। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও এ খবর জানত না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আগ্রহে প্রধানমন্ত্রী এই চিঠি দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং কেনার জন্য বিলিয়ন ডলারের অর্ডারে সম্মত হয়েছে বলে প্রথম জানান ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তার ঘোষণার পর অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং কেনার বিষয়টি সামনে আসে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বোয়িং কর্তৃপক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতেরও উপস্থিত থাকার কথা। অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং কেনার বিষয়ে চুক্তির প্রস্তুতি রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। বোয়িং কেনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথা উল্লেখ করে শিগগিরই তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। তিনি আরও বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

সার্জিও গোর জানান, বোয়িং উড়োজাহাজে বাংলাদেশের বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বাংলাদেশ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও তিনি জানান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গত ৩০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে। তখন ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার কথা জানানো হয়। ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এখন সংখ্যা আরও ১১টি বাড়ায় অতিরিক্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল তাদের কাছ থেকে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা, যার বিনিময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ বিক্রির প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ

আপডেটের সময় : ০৬:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের কাছে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ বিক্রির প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্যোগ নিয়েছে। গত এপ্রিলে ৪৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর বাংলাদেশের কাছে বাকি ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ বিক্রির তোড়জোড় চলছে। শেষ পর্যন্ত ২৫টি বোয়িং কেনার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন ছাড়া ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি জানত না বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, চিঠির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আর কেউ জানতেন না। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও এ খবর জানত না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আগ্রহে প্রধানমন্ত্রী এই চিঠি দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং কেনার জন্য বিলিয়ন ডলারের অর্ডারে সম্মত হয়েছে বলে প্রথম জানান ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তার ঘোষণার পর অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং কেনার বিষয়টি সামনে আসে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বোয়িং কর্তৃপক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতেরও উপস্থিত থাকার কথা। অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং কেনার বিষয়ে চুক্তির প্রস্তুতি রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। বোয়িং কেনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথা উল্লেখ করে শিগগিরই তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। তিনি আরও বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

সার্জিও গোর জানান, বোয়িং উড়োজাহাজে বাংলাদেশের বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বাংলাদেশ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও তিনি জানান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গত ৩০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে। তখন ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার কথা জানানো হয়। ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এখন সংখ্যা আরও ১১টি বাড়ায় অতিরিক্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল তাদের কাছ থেকে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা, যার বিনিময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়।