ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
তিন দিনের ব্যবধানে কেসিসির দুই চালকের মৃত্যু দাকোপে নদীগর্ভে বেড়িবাঁধ, হুমকিতে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি আমার কোনো সঞ্চয় নেই, মেয়েরাই আমার সঞ্চয় : উপকুলে আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন শ্যামনগর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অনুমোদিত কমিটি ঘোষণা : সভাপতি বিষ্ণুপদ মন্ডল,সাধারণ সম্পাদক কিরণ চ্যাটার্জী ফ্ল্যাটের দাম নাগালে আনতে গৃহঋণে ৫ শতাংশ সুদ চান রিহ্যাব সভাপতি এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণজোয়ার সৃষ্টি করবে : অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি খুলনায় লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে ঘর, খাদ্য ও সহায়ক উপকরণ বিতরণ এবং মেডিকেল সহায়তা প্রদান রামপালে জেলা পরিষদের মালিকানা জমিতে সুপার মার্কেট নির্মাণে মতবিনিময় সভা ইসলামপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মাদকবিরোধী শপথ নিল শতাধিক শিক্ষার্থী

দাকোপে নদীগর্ভে বেড়িবাঁধ, হুমকিতে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি

খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে বাঁধে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় হুমকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। প্রায় ৩০ বছর ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বারবার সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বটবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায়ও ঢাকী নদীর ভাঙনে বেড়িবাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। মোল্লাবাড়ির সামনে বাঁধের বড় অংশ ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও বসতবাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তারা নদীভাঙন দেখে আসছেন। প্রতি বছরই একাধিকবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। ভাঙতে ভাঙতে তাদেরসহ আশপাশের অনেকের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু এশিয়া পোস্টকে বলেন, গত ২ অক্টোবর খোনা মোল্লাবাড়ির সামনে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়। এরই মধ্যে সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) বারবার জানানো হলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। তাদের দাবি, অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণে বারবার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে পাউবোর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তারা। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা পাউবোর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই সেখানে কাজ শুরু করা হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু জরুরি সংস্কার নয়, নদীভাঙন বন্ধে টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

তিন দিনের ব্যবধানে কেসিসির দুই চালকের মৃত্যু

দাকোপে নদীগর্ভে বেড়িবাঁধ, হুমকিতে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি

আপডেটের সময় : ০৭:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে বাঁধে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় হুমকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। প্রায় ৩০ বছর ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বারবার সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বটবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায়ও ঢাকী নদীর ভাঙনে বেড়িবাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। মোল্লাবাড়ির সামনে বাঁধের বড় অংশ ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও বসতবাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তারা নদীভাঙন দেখে আসছেন। প্রতি বছরই একাধিকবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। ভাঙতে ভাঙতে তাদেরসহ আশপাশের অনেকের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু এশিয়া পোস্টকে বলেন, গত ২ অক্টোবর খোনা মোল্লাবাড়ির সামনে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়। এরই মধ্যে সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) বারবার জানানো হলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। তাদের দাবি, অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণে বারবার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে পাউবোর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তারা। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা পাউবোর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই সেখানে কাজ শুরু করা হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু জরুরি সংস্কার নয়, নদীভাঙন বন্ধে টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।