খুলনার খানজাহান আলী থানার গিল্লাতলা ইউনিয়নের আটরা এলাকায় চড়া সুদের কারবারি মো. সিয়ামের বেপরোয়া অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার হতদরিদ্র মানুষ। চড়া সুদে টাকা দিয়ে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে কারাবন্দী করার প্রতিবাদে এবং প্রতিকারের দাবিতে প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগী পরিবার একটি জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আজ ১০ অক্টোবর বিকেলে আটরার আপিল গেট এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুমকি বেগম। এ সময় মনোয়ারা বেগম, রুনা বেগম ও তাহমিনা বেগমসহ প্রায় অর্ধশত ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সুদ ব্যবসায়ী সিয়াম এলাকার সহজ-সরল ও হতদরিদ্র মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চড়া সুদে অর্থ লোন দিত। ঋণ দেওয়ার সময় গ্যারান্টি হিসেবে সে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ফাঁকা (ব্ল্যাংক) স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর বা টিপসই রাখত। গ্রহীতারা নির্দিষ্ট সময়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সিয়াম নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চেকে ও স্ট্যাম্পে বড় অংকের টাকা বসিয়ে আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়ার হুমকি দিত এবং তা বাস্তবায়নও করত।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম তার ওপর চলা নির্যাতনের করুণ চিত্র তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, সম্প্রতি সুদ ব্যবসায়ী সিয়ামের অনৈতিক ও চড়া সুদের ফাঁদের শিকার হয়ে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, মনোয়ারা বেগমের ছেলেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখেছিল সিয়াম। পরবর্তীতে সেই জালিয়াতির স্ট্যাম্পের ভিত্তিতে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার ছেলেকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তার ছেলে কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শুধু মনোয়ারা বেগমই নন, আটরা এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার এই চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিয়ামের এই সুদের সাম্রাজ্য ও আইনি হয়রানির কারণে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই চড়া সুদের কারবারি সিয়ামের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দৌলতপুর-খানজাহান আলী আঞ্চলিক প্রতিনিধি : 


















