ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
তিন দিনের ব্যবধানে কেসিসির দুই চালকের মৃত্যু দাকোপে নদীগর্ভে বেড়িবাঁধ, হুমকিতে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি আমার কোনো সঞ্চয় নেই, মেয়েরাই আমার সঞ্চয় : উপকুলে আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন শ্যামনগর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অনুমোদিত কমিটি ঘোষণা : সভাপতি বিষ্ণুপদ মন্ডল,সাধারণ সম্পাদক কিরণ চ্যাটার্জী ফ্ল্যাটের দাম নাগালে আনতে গৃহঋণে ৫ শতাংশ সুদ চান রিহ্যাব সভাপতি এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণজোয়ার সৃষ্টি করবে : অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি খুলনায় লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে ঘর, খাদ্য ও সহায়ক উপকরণ বিতরণ এবং মেডিকেল সহায়তা প্রদান রামপালে জেলা পরিষদের মালিকানা জমিতে সুপার মার্কেট নির্মাণে মতবিনিময় সভা ইসলামপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মাদকবিরোধী শপথ নিল শতাধিক শিক্ষার্থী

খুলনার আটরায় চড়া সুদের কারবারি সিয়ামের থাবায় সর্বস্বান্ত ৫০ পরিবার, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

খুলনার খানজাহান আলী থানার গিল্লাতলা ইউনিয়নের আটরা এলাকায় চড়া সুদের কারবারি মো. সিয়ামের বেপরোয়া অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার হতদরিদ্র মানুষ। চড়া সুদে টাকা দিয়ে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে কারাবন্দী করার প্রতিবাদে এবং প্রতিকারের দাবিতে প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগী পরিবার একটি জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আজ ১০ অক্টোবর বিকেলে আটরার আপিল গেট এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুমকি বেগম। এ সময় মনোয়ারা বেগম, রুনা বেগম ও তাহমিনা বেগমসহ প্রায় অর্ধশত ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সুদ ব্যবসায়ী সিয়াম এলাকার সহজ-সরল ও হতদরিদ্র মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চড়া সুদে অর্থ লোন দিত। ঋণ দেওয়ার সময় গ্যারান্টি হিসেবে সে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ফাঁকা (ব্ল্যাংক) স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর বা টিপসই রাখত। গ্রহীতারা নির্দিষ্ট সময়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সিয়াম নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চেকে ও স্ট্যাম্পে বড় অংকের টাকা বসিয়ে আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়ার হুমকি দিত এবং তা বাস্তবায়নও করত।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম তার ওপর চলা নির্যাতনের করুণ চিত্র তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, সম্প্রতি সুদ ব্যবসায়ী সিয়ামের অনৈতিক ও চড়া সুদের ফাঁদের শিকার হয়ে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, মনোয়ারা বেগমের ছেলেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখেছিল সিয়াম। পরবর্তীতে সেই জালিয়াতির স্ট্যাম্পের ভিত্তিতে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার ছেলেকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তার ছেলে কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শুধু মনোয়ারা বেগমই নন, আটরা এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার এই চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিয়ামের এই সুদের সাম্রাজ্য ও আইনি হয়রানির কারণে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই চড়া সুদের কারবারি সিয়ামের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

তিন দিনের ব্যবধানে কেসিসির দুই চালকের মৃত্যু

খুলনার আটরায় চড়া সুদের কারবারি সিয়ামের থাবায় সর্বস্বান্ত ৫০ পরিবার, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেটের সময় : ০১:১৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার খানজাহান আলী থানার গিল্লাতলা ইউনিয়নের আটরা এলাকায় চড়া সুদের কারবারি মো. সিয়ামের বেপরোয়া অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার হতদরিদ্র মানুষ। চড়া সুদে টাকা দিয়ে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে কারাবন্দী করার প্রতিবাদে এবং প্রতিকারের দাবিতে প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগী পরিবার একটি জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আজ ১০ অক্টোবর বিকেলে আটরার আপিল গেট এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুমকি বেগম। এ সময় মনোয়ারা বেগম, রুনা বেগম ও তাহমিনা বেগমসহ প্রায় অর্ধশত ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সুদ ব্যবসায়ী সিয়াম এলাকার সহজ-সরল ও হতদরিদ্র মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চড়া সুদে অর্থ লোন দিত। ঋণ দেওয়ার সময় গ্যারান্টি হিসেবে সে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ফাঁকা (ব্ল্যাংক) স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর বা টিপসই রাখত। গ্রহীতারা নির্দিষ্ট সময়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সিয়াম নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চেকে ও স্ট্যাম্পে বড় অংকের টাকা বসিয়ে আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়ার হুমকি দিত এবং তা বাস্তবায়নও করত।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম তার ওপর চলা নির্যাতনের করুণ চিত্র তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, সম্প্রতি সুদ ব্যবসায়ী সিয়ামের অনৈতিক ও চড়া সুদের ফাঁদের শিকার হয়ে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, মনোয়ারা বেগমের ছেলেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখেছিল সিয়াম। পরবর্তীতে সেই জালিয়াতির স্ট্যাম্পের ভিত্তিতে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার ছেলেকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তার ছেলে কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শুধু মনোয়ারা বেগমই নন, আটরা এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার এই চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিয়ামের এই সুদের সাম্রাজ্য ও আইনি হয়রানির কারণে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই চড়া সুদের কারবারি সিয়ামের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।