ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরমাণু বিক্রিয়া শুরু

  • মধুমতি ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : ০৩:৩৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ধাপ অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে চুল্লিটি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে প্রথম ইউনিটে স্বনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ। ি

নউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর চুল্লির গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এ অর্জনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী চুল্লির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা, বিভিন্ন ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই, ধাপে ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রিড সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। এ পর্যায়কে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি বলা হয়। এটি এমন একটি অবস্থা, যখন চুল্লির ভেতরে পারমাণবিক বিক্রিয়া নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও দুটি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির পর চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ধাপে ধাপে শক্তি বাড়ানোর কাজ চলবে। প্রকল্প কর্মকর্তাদের হিসাবে, সব পরীক্ষা পরিকল্পনামতো এগোলে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতে পারে। চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন শুরু হয়। পরে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি চুল্লির কেন্দ্রে বসানো হয়। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

কুষ্টিয়ায় নতুন সংসার পাকিস্তানি যুবকের

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরমাণু বিক্রিয়া শুরু

আপডেটের সময় : ০৩:৩৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ধাপ অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে চুল্লিটি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে প্রথম ইউনিটে স্বনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ। ি

নউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর চুল্লির গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এ অর্জনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী চুল্লির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা, বিভিন্ন ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই, ধাপে ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রিড সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। এ পর্যায়কে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি বলা হয়। এটি এমন একটি অবস্থা, যখন চুল্লির ভেতরে পারমাণবিক বিক্রিয়া নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও দুটি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির পর চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ধাপে ধাপে শক্তি বাড়ানোর কাজ চলবে। প্রকল্প কর্মকর্তাদের হিসাবে, সব পরীক্ষা পরিকল্পনামতো এগোলে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতে পারে। চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন শুরু হয়। পরে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি চুল্লির কেন্দ্রে বসানো হয়। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে।