সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চার গ্রাম ও মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল গ্রাম তাহিরপুর ও বীরনগর, জয়নগর, লক্ষীপুর, ধুতমা গ্রামের লোকজন জড়ো হন। পরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দুপুরের দিক থেকে শনির হাওরের পাড়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বীরনগর, জয়নগর, লক্ষীপুর ও ধুতমা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে পূর্ববিরোধ চলছিল। এরই জেরে বুধবার বীরনগর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে দুপুরে থেকে উত্তেজিত লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষের অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় সচেতন লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
তাহিরপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ”এত বড় সংঘর্ষ হবে জানার পরও কেন ১৪৪ ধারা জারি করা হল না। তাহিরপুরের অবস্থা খুব ভয়াবহ, আমরা প্রশাসনকে বলব দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য”।
কাশ্মীর রাজা বলেন, “অন্তত ১২ ঘন্টা আগে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে আজকের সংঘর্ষের ব্যাপারে। অথচ তাহিরপুরে কি এমন কেউ নাই যে মাইরটা থামাতে পারতো”।
নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গতকাল রাত থেকেই তাহিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বর্তমানে থানার ওসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
গতকাল মাইকিংয়ের পর থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করায় স্থানীয়রা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির দাবি জানিয়েছেন। ১৪৪ ধারা জারি করা হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন মনে হলে এবং থানার ওসি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিলে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে। তবে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কতজন আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : 


















