ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
তিন দিনের ব্যবধানে কেসিসির দুই চালকের মৃত্যু দাকোপে নদীগর্ভে বেড়িবাঁধ, হুমকিতে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি আমার কোনো সঞ্চয় নেই, মেয়েরাই আমার সঞ্চয় : উপকুলে আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন শ্যামনগর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অনুমোদিত কমিটি ঘোষণা : সভাপতি বিষ্ণুপদ মন্ডল,সাধারণ সম্পাদক কিরণ চ্যাটার্জী ফ্ল্যাটের দাম নাগালে আনতে গৃহঋণে ৫ শতাংশ সুদ চান রিহ্যাব সভাপতি এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণজোয়ার সৃষ্টি করবে : অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি খুলনায় লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে ঘর, খাদ্য ও সহায়ক উপকরণ বিতরণ এবং মেডিকেল সহায়তা প্রদান রামপালে জেলা পরিষদের মালিকানা জমিতে সুপার মার্কেট নির্মাণে মতবিনিময় সভা ইসলামপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মাদকবিরোধী শপথ নিল শতাধিক শিক্ষার্থী

সুনামগঞ্জে রাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সকাল থেকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চার গ্রাম ও মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল গ্রাম তাহিরপুর ও বীরনগর, জয়নগর, লক্ষীপুর, ধুতমা গ্রামের লোকজন জড়ো হন। পরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দুপুরের দিক থেকে শনির হাওরের পাড়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বীরনগর, জয়নগর, লক্ষীপুর ও ধুতমা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে পূর্ববিরোধ চলছিল। এরই জেরে বুধবার বীরনগর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে দুপুরে থেকে উত্তেজিত লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষের অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় সচেতন লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

তাহিরপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ”এত বড় সংঘর্ষ হবে জানার পরও কেন ১৪৪ ধারা জারি করা হল না। তাহিরপুরের অবস্থা খুব ভয়াবহ, আমরা প্রশাসনকে বলব দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য”।

কাশ্মীর রাজা বলেন, “অন্তত ১২ ঘন্টা আগে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে আজকের সংঘর্ষের ব্যাপারে। অথচ তাহিরপুরে কি এমন কেউ নাই যে মাইরটা থামাতে পারতো”।

নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গতকাল রাত থেকেই তাহিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বর্তমানে থানার ওসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

গতকাল মাইকিংয়ের পর থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করায় স্থানীয়রা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির দাবি জানিয়েছেন। ১৪৪ ধারা জারি করা হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন মনে হলে এবং থানার ওসি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিলে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে। তবে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কতজন আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

তিন দিনের ব্যবধানে কেসিসির দুই চালকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে রাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সকাল থেকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ

আপডেটের সময় : ০৬:৫৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চার গ্রাম ও মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল গ্রাম তাহিরপুর ও বীরনগর, জয়নগর, লক্ষীপুর, ধুতমা গ্রামের লোকজন জড়ো হন। পরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দুপুরের দিক থেকে শনির হাওরের পাড়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বীরনগর, জয়নগর, লক্ষীপুর ও ধুতমা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে পূর্ববিরোধ চলছিল। এরই জেরে বুধবার বীরনগর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে দুপুরে থেকে উত্তেজিত লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষের অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় সচেতন লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

তাহিরপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ”এত বড় সংঘর্ষ হবে জানার পরও কেন ১৪৪ ধারা জারি করা হল না। তাহিরপুরের অবস্থা খুব ভয়াবহ, আমরা প্রশাসনকে বলব দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য”।

কাশ্মীর রাজা বলেন, “অন্তত ১২ ঘন্টা আগে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে আজকের সংঘর্ষের ব্যাপারে। অথচ তাহিরপুরে কি এমন কেউ নাই যে মাইরটা থামাতে পারতো”।

নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গতকাল রাত থেকেই তাহিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বর্তমানে থানার ওসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

গতকাল মাইকিংয়ের পর থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করায় স্থানীয়রা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির দাবি জানিয়েছেন। ১৪৪ ধারা জারি করা হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন মনে হলে এবং থানার ওসি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিলে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে। তবে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কতজন আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।