ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
সুন্দরবনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রতিবাদে খুলনায় মানববন্ধন : পরিবেশ ও অর্থনীতি সুরক্ষায় প্রকল্প বাতিলের দাবি সুন্দরবন থেকে হরিণের মাংস, মাথা ও পা সহ চামড়া জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে শুরু হচ্ছে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ দুই মামলায় আলোচনায় দিলীপ আগরওয়ালা, তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয় যশোরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে খুলনার আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপমহাপরিচালকের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি তার নিজস্ব দর্শন, স্বতন্ত্র নীতি ও নিরাময় ক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে গণআকাঙ্ক্ষা নস্যাতের চক্রান্ত রুখে দিতে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চে খুলনাবাসীকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে : মঞ্জু ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার-এই সম্প্রীতির বন্ধন আমাদের ঐতিহ্য : আলী আসগার লবি এমপি

সুন্দরবনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রতিবাদে খুলনায় মানববন্ধন : পরিবেশ ও অর্থনীতি সুরক্ষায় প্রকল্প বাতিলের দাবি

  • খবর বিজ্ঞপ্তি :
  • আপডেটের সময় : ০৭:১৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে এবং স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবন সুরক্ষার দাবিতে খুলনায় এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে ‘আমরাই আগামী’, ‘ক্লাইমেট কানেক্টস’, ‘রিগ্লোবাল’, ‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, খুলনা’, ‘ক্লিন’ এবং ‘বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এক্সটার্নাল ডেট’ (বিডাব্লিউজিইডি)-সহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন আকবর পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনাল নির্মিত হলে এলাকার সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পরিবেশ, অনন্য জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক প্রাকৃতির প্রতিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে, সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি ও মাছের প্রাপ্যতা কমে গেলে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় তাদের প্রধান জীবিকা ও আয়ের উৎস হারানোর চরম ঝুঁকিতে পড়বে। এর ফলে উপকূলীয় মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে এ ধরনের প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া মোটেও উচিত হবে না।

জ্বালানি ও অর্থনৈতিক খাতের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, এলএনজি আমদানিনির্ভর অবকাঠামো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। টার্মিনাল নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির মূল্যের তীব্র ওঠানামা দেশের জ্বালানি খাতের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি করবে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা ও চাহিদার বাস্তব চিত্র বিবেচনায় না নিয়ে নতুন এলএনজি টার্মিনাল কিংবা এলএনজিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা চরম অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে রূপ নেবে।

বক্তারা নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি অবকাঠামোতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের প্রসারে সেই অর্থ ব্যয় করার তাগিদ দেন। তাঁরা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, উপযোগী স্থানে সোলার পার্ক স্থাপন এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। এলএনজি আমদানির বিপুল ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে সৌরবিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোর অন্যতম টেকসই বিকল্প।

কর্মসূচি থেকে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অবকাঠামো সম্প্রসারণের পথ থেকে সরে আসতে হবে। দেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা, বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা, পরিবেশগত ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে স্থানীয় মানুষের অধিকার, পরিবেশের সুরক্ষা এবং জনগণের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রতিবাদে খুলনায় মানববন্ধন : পরিবেশ ও অর্থনীতি সুরক্ষায় প্রকল্প বাতিলের দাবি

সুন্দরবনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রতিবাদে খুলনায় মানববন্ধন : পরিবেশ ও অর্থনীতি সুরক্ষায় প্রকল্প বাতিলের দাবি

আপডেটের সময় : ০৭:১৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে এবং স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবন সুরক্ষার দাবিতে খুলনায় এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে ‘আমরাই আগামী’, ‘ক্লাইমেট কানেক্টস’, ‘রিগ্লোবাল’, ‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, খুলনা’, ‘ক্লিন’ এবং ‘বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এক্সটার্নাল ডেট’ (বিডাব্লিউজিইডি)-সহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন আকবর পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনাল নির্মিত হলে এলাকার সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পরিবেশ, অনন্য জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক প্রাকৃতির প্রতিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে, সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি ও মাছের প্রাপ্যতা কমে গেলে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় তাদের প্রধান জীবিকা ও আয়ের উৎস হারানোর চরম ঝুঁকিতে পড়বে। এর ফলে উপকূলীয় মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে এ ধরনের প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া মোটেও উচিত হবে না।

জ্বালানি ও অর্থনৈতিক খাতের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, এলএনজি আমদানিনির্ভর অবকাঠামো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। টার্মিনাল নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির মূল্যের তীব্র ওঠানামা দেশের জ্বালানি খাতের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি করবে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা ও চাহিদার বাস্তব চিত্র বিবেচনায় না নিয়ে নতুন এলএনজি টার্মিনাল কিংবা এলএনজিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা চরম অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে রূপ নেবে।

বক্তারা নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি অবকাঠামোতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের প্রসারে সেই অর্থ ব্যয় করার তাগিদ দেন। তাঁরা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, উপযোগী স্থানে সোলার পার্ক স্থাপন এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। এলএনজি আমদানির বিপুল ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে সৌরবিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোর অন্যতম টেকসই বিকল্প।

কর্মসূচি থেকে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অবকাঠামো সম্প্রসারণের পথ থেকে সরে আসতে হবে। দেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা, বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা, পরিবেশগত ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে স্থানীয় মানুষের অধিকার, পরিবেশের সুরক্ষা এবং জনগণের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।